ঝিকরগাছার ইকরাদ হত্যায় জড়িত আরও একজন আটক, স্বীকারোক্তি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর কলোনিপাড়ার ভ্যানচালক ইকরাম হোসেন ওরফে ইকরাদ হত্যাকা-ে জড়িত আরো একজন দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আলমগীর সরদার (২৪) নামে ওই দুর্বৃত্তকে গত শনিবার দিবাগত রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার হাদীপুরের একটি ইটভাটা থেকে আটক করা হয়।
পিবিআই জানায়, আটক আলমগীর হোসেন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা উপজেলার ক্যাশা মির্জাপুর এলাকার মতলেব সরদারের ছেলে। রোববার তাকে যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই ¯েœহাশিস দাশ জানান, হত্যার শিকার ইকরাদ (৬০) গরু পালনসহ ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২১ সালের ১৯ জুলাই তিনি একটি গরু ৫৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এরপর ওইদিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কৃত্তিপুর গ্রামের হাওয়ার মোড়ের জনৈক কবিরের দোকানে চা পান করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন সন্ধ্যার দিকে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মোছা. সালমা খাতুন আজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই। পরবর্তীতে বিাভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার সাথে জড়িত ৪ জনকে যথাক্রমে সজীব, ইমন, ওয়াসিম ও সালাম সরদারকে আটক করা হয়। পরে আটক সালাম সরদারের স্বীকারোক্তিতে মনিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের জনৈক বাবলু বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ইকরাদের লুণ্ঠিত ভ্যান উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, আটক ৪ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তাদের দেয়া জবানবন্দিতে হত্যা ও ভ্যান চুরির সাথে জড়িত হিসেবে আলমগীরের নাম প্রকাশ পায়। এরই প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়। আলমগীরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার রাতে সেসহ অন্যরা ভ্যান চুরির উদ্দেশ্যে ইকরাদের বাড়িতে যায়। তারা ভ্যান চুরির সময় টের পেয়ে ইকরাদ তাদের বাধা দেন। এ সময় তারা ইকরাদের জামা দিয়ে হাত-পা বেঁধে ও গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে। এরপর তার লাশ পাশের কলাবাগানে ফেলে রেখে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়।