আগামী বছরের জুনের মধ্যে যশোরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিটের সেবা দেওয়া হবে

ইকোর চক্ষু ক্যাম্প উদ্বোধনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব হাসিনা বেগম। বছর পাঁচেক আগেও শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। ফলে বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হয়েছে কাজ। এরই মধ্যে গত পাঁচ মাস ধরে চোখে ঝাপসা দেখছেন। বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ক্যাম্পের কথা শুনে হাজির হন সেখানে।

চিকিৎসাসেবা নিয়ে ফেরার পথে হাসিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে দুই চোখে খুব জ্বালাপোড়া ও যন্ত্রণা হচ্ছে। ড্রপ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ভালো ডাক্তার দেখাব, কিন্তু টাকা নেই। আজ স্কুল মাঠে ফ্রি ক্যাম্প হবে শুনে এসেছি। সিরিয়াল দিয়ে বিনা মূল্যে ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার দুই চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দিয়েছেন। ওষুধও বিনা মূল্যে পেয়েছি। ডাক্তার বলেছেন, কয়েক দিন পর এক চোখে আমেরিকান লেন্স লাগিয়ে দেবেন। তখন নাকি আগের চেয়ে ভালো দেখতে পারব।’

শনিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোর শহরের এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আমেরিকান সাহায্য সংস্থা ইকো আয়োজিত বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি শনাক্তকরণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেড় শতাধিক হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের ছানি অপারেশন করে লেন্স প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে যশোরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিটের সেবা নিশ্চিত করা হবে। গুরুতর হৃদরোগীদের যেন চিকিৎসার জন্য আর অন্য জেলায় ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলছে। সেটিও দ্রুত চালু করে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে সরকার।

চক্ষু ক্যাম্পের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইকো সব সময় মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে ইকোর মতো অন্যান্য সংগঠন ও বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশে বঞ্চনা থাকবে না।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বাংলাদেশ চক্ষু বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক চিকিৎসক মাহমুদুর রহমান, এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইসহাক, প্রধান শিক্ষক খায়রুল আনাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রোগ্রামার আরিফ নূর এবং ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পে সরেজমিন দেখা যায়, প্রবেশের পর সেবাপ্রার্থীদের ক্রমিক নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে টেকনিশিয়ান ও রিফ্রেকশনিস্টরা রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। পরে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। সেই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট বুথ থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ সংগ্রহ করছেন সেবাপ্রার্থীরা। চিকিৎসা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চক্ষু বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক চিকিৎসক ডা. মাহমুদুর রহমান।

সেবা পেয়ে খুশি শংকরপুর এলাকার সালমা বেগম। ৭০ বছর বয়সী এই নারীর স্বামী মারা গেছেন চার বছর আগে। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা দেখাশোনা করলেও তাদের অবস্থা দিন আনে দিন খাওয়ার মতো। ফলে আমার অসুখ-বিসুখের চিকিৎসার খরচ মেটাতে পারে না। অনেক দিন ধরে চোখে যন্ত্রণা হচ্ছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। তবে আজকের ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, দ্রুত উন্নতি হবে।’

ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের জানান, ইকোর অর্থায়নে সংগঠনটি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যশোরের চাঁচড়ায় অবস্থিত ইকো ট্রেনিং সেন্টার কাজ করছে।

এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।