৩৩ লাখ টাকার সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

0
ছবি: সংগৃহীত।

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)॥ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে সেতুতে ওঠানামার জন্য বাঁশের মই বসিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সংযোগ সড়কের মাটি ধসে ভাঙনের মুখে পড়েছে স্থানীয়দের বসতভিটা ও চলাচলের পাকা রাস্তা।

এ চিত্র শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত সেতুটির। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় অপরিকল্পিতভাবে খালের পাড় ও রাস্তার পাশ থেকে মাটি কাটায় সংযোগ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় মোহাম্মদ গাজীর বসতভিটার একাংশ ধসে গেছে। চলাচলের পাকা রাস্তাটিও ভেঙে খালে বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক প্রায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। মাটি ধসে সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাড়সংলগ্ন একটি বসতঘরও ধসে পড়েছে। সেতুতে ওঠানামার জন্য স্থানীয়রা বাঁশের মই ব্যবহার করছেন। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির গাজী আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ৭ নম্বর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ও রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকার এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। ঠিকাদারের অপরিকল্পিত কাজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, সেতু নির্মাণের সময় ইঞ্জিনিয়ারদের নকশা ও নিয়মকানুন উপেক্ষা করে ঠিকাদার নিজের সুবিধামতো খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটেন। এতে প্রথম বর্ষাতেই রাস্তার মাটি ধসে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেখান থেকে প্রায় লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মাটির ব্যবস্থা না করায় সেতুটি এভাবে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি পাইলিং করে সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিজটি নির্মাণের ফলে আমাদের উপকার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে।

রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন ঠিকমতো চলাচলও করতে পারছি না। গভীর করে মাটি কাটার কারণে আমার রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর থাকা ঘরটি ভেঙে গেছে। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় এটি সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিরাজ হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে দেখবেন। এ বিষয়ে পিআইওর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্ন ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।