জীবননগরে সাড়ে ৪৫ হাজার কুরবানির পশু প্রস্তুত,চাহিদা না থাকায় লোকসানের আশঙ্কা

0

 

নুর ইসলাম, জীবননগর(চুয়াডাঙ্গ) ॥ পবিত্র কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলার কৃষক ও খামারি পর্যায়ে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা না থাকায় এবারও লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা। জীবননগর উপজেলার খামারিরা করোনা পরিস্থিতির কারণে দুবছর লোকসানের পর এবার লাভের আশা করলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে বন্যার প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থানীয় পশুহাটগুলোতে ক্রেতা সাধারণ ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি খুব কম। যে কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবারও খামারিরা লোকসানের শিকার হবেন।
জীবননগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ছোট বড় মিলে ২ হাজার ২৭০টি খামারে এসব গরু, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশু থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু বাইরের উপজেলাগুলোতে সরবরাহ করা যাবে। দ্রব্যমূল্যের বাজারে চড়া দামে গো-খাদ্য কিনে অথবা ঋণ নিয়ে খামারিদের শঙ্কার দু’বছরের মত এবারও যদি লোকসান গুনতে হয়, তাহলে তাদেরকে পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে। জীবননগরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠা খামারিদের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকেরা প্রতি বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে কুরবানির উপযোগী করে তোলেন। মোটাতাজাকরণ এসব পশু ঈদের বাজারে বিক্রি করে লাভবান হয়ে আসছেন। একইভাবে তারা এ বছরও পশু মোটাতাজাকরণ করে ইতিমধ্যে বাজারজাত শুরু করেছেন। এক বুক লাভের আশা নিয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করলেও বন্যার কারণে হাটে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম হওয়ায় খামারি ও কৃষকরা হতাশ। জীবননগর উপজেলা শিয়ালমারী পশুহাটটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় পশুহাট হিসেবে পরিচিত হলেও সেই হাটে এখনও উল্লেখযোগ্য পশু বেচাকেনা শুরু হয়নি।
জীবননগরের বিশিষ্ট গরু ব্যবসায়ী রাজা মিয়া বলেন, চলতি বছর খামারি ও কৃষকরা যে উদ্যোম নিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করেছিলেন সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশে বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার কারণে সে আশায় ভাটা পড়েছে। আমাদের এলাকার পশুহাটগুলো থেকে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ফেনী ও বরিশাল অঞ্চলের বেপারিরা উল্লেখযোগ্য পশু কিনে নিয়ে যান। খামারি ছাড়াও বেপারিরা মোটাতাজাকরণের গরু বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিনে থাকেন। কিন্তু এবার আর সে অবস্থা এখনও দেখা যায়নি।
জীবননগর উপজেলার পিয়ারাতলা বাসার অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক আবুল বাসার বলেন, ‘কুরবানির জন্য আমার ফার্মে চলতি বছর ছোট-বড় ৫২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৫টি গরু বিক্রি করা হয়েছে। বাকীগুলো আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আমার ফার্মের বড় গরুগুলোকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে ছোট-মাঝারি গরুগুলো ৩ লাখ থেকে ৭ লাখের মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।’
উপজেলা সদরের লক্ষীপুরের জামাল অ্যাগ্রো ফুড লিমিটেডের পরিচালক জামাল হোসেন খোকন বলেন, জীবননগরের খামারিরা নেপিয়ারসহ প্রাকৃতিক নিয়মে পুষ্টিকর খাদ্য খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করে থাকেন। স্টেরয়েড জাতীয় কোন ওষুধ খাওয়ানো হয় না। ফলে পশুগুলো হয় রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত। যে কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার বেপারিদের কাছে উপজেলার খামারিদের গরুর চাহিদাও বেশি। তবে এবার বন্যার কারণে বেপারিদের আনাগোনা কম দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে পর পর দুই বছর কুরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত পশু খামারিরা বিক্রি করতে পারেননি। তারা সেই সব পশু এবার বিক্রি করছেন। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে চাষিরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন।