জিয়াউর রহমানই তরুণদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক(খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সংস্কার কীভাবে করতে হয় তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেখিয়ে গেছেন। বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া, নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় চালু, আনসার-পুলিশে নারীর অংশগ্রহণ, যৌতুকবিরোধী আইন প্রণয়নসহ অসংখ্য সংস্কারমূলক কাজ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, আজ জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অনেক দিক তুলে ধরা হচ্ছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তরুণদের সন্নিবেশের কথা বলা হচ্ছে। অথচ জিয়াউর রহমান তিনি অল্প বয়সে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে তরুণদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। যশোরের প্রয়াত বর্ষীয়াণ নেতা তরিকুল ইসলাম, মরহুম আফসার আহমেদ সিদ্দিকী তরুণ বয়সেই তার কাছ থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অথচ এমন একজন বিচক্ষণ মানুষ পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসররা অস্বীকার করে আসছে। তাই বিএনপি প্রতিটি নেতাকর্মীকে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিজীবনের আদর্শ অনুসরণ করে গড়ে উঠতে হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জিয়াউর রহমান ও বিএনপি অতীতে কর্মের মাধ্যমে সংস্কারের নজির রেখে গেছেন। তাই বিএনপি জানে কীভাবে সংস্কার করতে হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার বিকেলে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হঠাৎ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছিলেন এটি নয়, মুক্তিযুদ্ধের জেডফোর্সের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার, সামরিক কর্মকর্তা থেকে একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হয়েছিলেন তিনি। একজন তরুণ সেনা অফিসার হিসেবে তার বিচক্ষণতা, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অল্প সময়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে সিপাহী জনতার সম্মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তাকে ক্ষমতায় বসাতে বাধ্য হয়েছিলো। তিনি একমাত্র সেক্টর কমান্ডার যিনি নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সরাসরি জনগনকে সাথে নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়েন। এমন দৃষ্টান্ত একমাত্র জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ‘১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য আমরা লড়াই-সংগ্রাম করেছি, তা আমরা এখনও পাইনি। তাই গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধৈর্যসহকারে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৬ বছর ধরে তারেক রহমানকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই ম্যান্ডেটের মর্যাদা রক্ষা করা বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর দায়িত্ব। তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দলের যে কর্মী তারেক রহমানকে দেওয়া জনগণের ম্যান্ডেটের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে না, যে কর্মী জনগণের প্রতিপক্ষ হবে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে, তার জায়গা বিএনপিতে হবে না। এদের বিষয়ে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানান তিনি।

যশোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মুনীর আহম্মদ সিদ্দিকী বাচ্চুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আগবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আহবায়ক কমিটির সদস্য, অ্যাডভোকেট, জাফর সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. ইসহক, আব্দুস সালাম আজাদ, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনজুরুল হক থোকন।

এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বেগম জাহানারা সিদ্দিকী, যশোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান খান, আলহাজ আনিচুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, সাধারণ সম্পাদিকা ফেরদৌসী বেগম, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর ও সাধারণ সম্পাদক কারুজ্জামান বাপ্পী।

এদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে শহরের লালদীঘিপাড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ পলাশের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির আহবায় অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তরিকুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।