চৌগাছায় মীমকে হত্যার অভিযোগে প্রেমিকসহ ৩ জনের নামে মামলা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের স্কুলছাত্রী মীম খাতুনকে হত্যার অভিযোগে প্রেমিকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে মামলা হয়েছে। একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও নিহত মীম খাতুনের মা পারভীন বেগম মামলাটি করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সালমান আহমেদ শুভ অভিযোগটি গ্রহণ এবং এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা না হলে এটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য চৌগাছা থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন-জগদীশপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার এবং তার দুই ছেলে টগর হোসেন ও সাগর হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মীম জগদীশপুর মির্জাপুর ইসমাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। আসামি টগর তাকে প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি টগরের পরিবার জানতে পেরে মীমকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে সালিশ বৈঠকে টগরের পরিবারের লোকজন মীমের পিতাকে মারধর করেন। এ কারণে মীম ক্ষোভে টগরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এতে টগর অভিমান করে ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। গত ২৫ মে টগরের মা নাজমা ও ভাই সাগর মীমদের বাড়িতে গিয়ে তাকে স্কুলে যেতে নিষেধ করেন। তারা এ সময় তাকে গলিগালাজ ও খুন জখমের হুমকি দেন। গত ৮ জুন মীম স্কুলে পরীক্ষা দিতে গেলে আসামিরা সেখানে গিয়েও তাকে গলিগালাজ করেন। এরপর সকাল পৌনে ১০ টার দিকে আসামিরা কৌশলে মীমকে ক্লাস রুমে থেকে ডেকে এনে কোমল পানীয়ের সাথে গন্ধবিহীন কীটনাশক পান করিয়ে দেন। এর প্রেক্ষিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মীমকে প্রথমে চৌগাছা এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। কিন্তু মীমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জুন দুপুরে মারা যায় মীম।