চৌগাছায় প্রায় ৪শ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ : বা¤পার ফলনের আশায় চাষি

0

এম, এ, রহিম, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশায় স্বপ্ন বুনছেন এ অঞ্চলের চাষি। মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ এলাকায় যেদিকে চোখের দৃষ্টি সীমানায় শুধু দেখা মেলে পেঁয়াজের আবাদ।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ আগাম জাতের চাষ করা মুড়িকাটা পেঁয়াজের ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। বিপুল সংখ্যক ভোক্তা চাহিদা সম্পন্ন অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল হওয়ায় পেঁয়াজ চাষ করে এ এলাকার চাষি বছরের অর্থনৈতিক চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। উপজেলার নারায়ণপুর, সুখপুকুরিয়া, জগদিশপুর, হাকিমপুর, পাতিবিলা ও ধুলীয়ানী ইউনিয়নে পেঁয়াজের চাষ বেশি হয়। এ এলাকা ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারের পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ আগাম রোপণ করা হয়েছে। পেঁয়াজের বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পাবেন বলে আশা করছেন এ অঞ্চলের চাষি। দেশে পেঁয়াজের সংকটের কারণে বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষি অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। তবে এবারে পেঁয়াজ চাষে খরচ হয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এবারে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষি। ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশি পেঁয়াজের গুণগতমান ভালো। তাই দাম বেশি পাওয়ার প্রত্যাশা চাষিদের। ন্যায্য বাজার মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে এ এলাকায় পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে চাষিরা জানিয়েছেন।
চৌগাছা কৃষি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় তাহেরপুরী, ললাতীর কিং, সুখসাগর ও দেশী জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে প্রায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে। আর কয়েকদিন পরেই স্বপ্নের অর্থকরী সোনালী ফসল পেঁয়াজ ঘরে তুলবেন চাষিরা।
উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের চাষি আনিচুর রহমান বলেন, বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে এ পেঁয়াজ চাষাবাদ শুরু হয়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ও জানুয়ারির শুরুতে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়।
একই গ্রামের পেঁয়াজ চাষি খলিলুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এ বছর পেঁয়াজের বা¤পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান বাজার মূল্য স্থিতিশীল থাকলে লাভবান হবে চাষি। পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। দাম ভাল থাকলে আগামীতেও চাষিরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবেন। এতে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ হবে।
চৌগাছা বাজারের আড়তদার আজিজুর রহমান বলেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। ১০০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কালি (ফুল) বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, এ বছর ৩৬০হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এবারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

 

Lab Scan