চৌগাছার হাকিমপুরে গত ৩০ বছরেও রাস্তার সংস্কার হয়নি, জনদুর্ভোগ চরমে

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় গত ৩০ বছরে মাত্র দুই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারও মানুষ। রাস্তাটি উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি স্থানীয় জামতলা মোড় থেকে হাজিপুর মর্জাদ বাঁওড়ের অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত। রাস্তাটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকবাসী।

স্থানীয়রা জানান, দুই কিলোমিটার রাস্তাটি তিন দশক আগে সলিং করা হয়। এরপর আর কখনও রাস্তাটির সংস্কার বা পাকাকারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে রাস্তার বেশির ভাগ স্থানে ইট উঠে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের, ইট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী এবং সড়কের পাশে পুকুরেও ভেঙে গেছে রাস্তার অংশ। সব মিলিয়ে স্থানীয়রা চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, অসহনীয় কষ্ট ভোগ করে স্থানীয়সহ অন্যান্য এলাকার মানুষ মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানে এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তারা ছুটে আসেন এবং জানান তাদের দুর্ভোগের কথা।

কলেজ শিক্ষার্থী পারভেজ হোসেন বলেন, রাস্তার যে অবস্থা তাতে আমাদের বাড়ি হতে বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, কোনো বাহন এ রাস্তায় চলতে চায় না। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। মাঠে উৎপাদিত সবজিসহ সব ধরনের ফসল বাড়িতে আনতে যেমন বেগ পেতে হয় অনুরুপ সেটি বাজারজাতকরণেও সমস্যায় পড়তে হয়। রাস্তাটি চরম খারাপের কারণেই আমাদের আজ এই পরিণতি। স্কুল শিক্ষার্থী ঝিলিক খাতুন বলে, আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি। জরুরি কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে এই রাস্তা ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।

ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম বলেন, এই একটি মাত্র রাস্তার কারণে এ জনপদের হাজারও মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের। ইজিবাইকচালক বিল্লাল হোসেন বলেন, রাস্তাটি আমদের গলার কাঁটায় রুপ নিয়েছে। এই রাস্তায় ভ্যান, ইজিবাইক কিছুই চলতে পারে না।

হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, রাস্তাটির বেহালদশার কারণে ওই এলাকার মানুষের কষ্টের কোনো শেষ নেই। বিগত দিনে আমি বারবার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুণ্ডু বলেন, বর্তমান অর্থবছরে নতুন কোনো রাস্তার কাজ হবে না। নতুন অর্থবছর শুরু হলে রাস্তাটি পাকাকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।