চৌগাছার ছায়াশীতল পশুহাট কাছে টানে ক্রেতা-বিক্রেতাকে

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছার একমাত্র ‘পৌর পশুহাট’ নানা প্রতিকুলতা টপকে তার সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছে। সুষ্ঠু পরিচালনার কারণে এ হাটের সুনাম দেশজুড়ে।

এ পশুহাটটি উপজেলা সদর হতে এক কিলোমিটার পশ্চিমে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের টেংগুরপুর ঋষিপাড়া সংলগ্ন প্রধান সড়কের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। বড় একটি এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই হাটের অন্যতম বৈশিষ্ট এর প্রাকৃতি পরিবেশ। ছায়াঘেরা শীতল আবহাওয়া ক্রেতা- বিক্রেতাকে মুগ্ধ করে।

এ কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাটের আগের দিন হতে ক্রেতা- বিক্রেতা এখানে আসতে শুরু করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা এসে পশু ক্রয় করে ট্রাক ভরে নিয়ে যান নিজ এলাকায়।

শুক্রবার সাপ্তাহিক হাট বসে এখানে। এ দিন জুমার নামাজ আদায় শেষে পশুহাটে দেখা যায়, পশুর হাক-ডাক আর ক্রেতা সাধারণের পদচারণায় গোটা হাট এলাকা মুখরিত। বিভিন্ন জেলা- উপজেলার ক্রেতারা পশু কিনে নিয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন। সড়কের এক পাশে মাইকে প্রচার প্রচারণা চলছে, সকলে নিরাপদে হাটে প্রবেশ করুন। পছন্দের পশু ক্রয় করুন। চলে যান নিজ এলাকায়। কোন অসাধু ব্যক্তি যেন কোন সুযোগ নিতে না পারে। হাট কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছে। ধরা পড়লে রক্ষা নেই। এভাবে এক ব্যক্তি সারাদিন সতর্কতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেখা যায়, পাশের কোটচাঁদপুর উপজেলা থেকে আসা হাশেম আলী কালো রঙের একটি বিশাল ষাঁড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বললেন, ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছি। ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দাম হয়েছে এরিমধ্যে।

আরেক ব্যক্তি ইব্রাহিম হোসেন। তিনি জানান, ভারত সীমান্তের ভৈরবা থেকে তিনি একটি গরু কিনতে এসেছেন। বলেন, চৌগাছা পশুহাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ছায়াশীতল পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেন আশা বলেন, চৌগাছার পশুহাট এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণপ্রিয় হাট। এর অন্যতম কারণ হাটের পরিবেশ ও কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি।

এদিকে পশুহাটকে কেন্দ্র করে চারপাশে অর্ধশত হোটেল রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তারা প্রতি হাটে সন্তোষজনক আয় করে বাড়িতে ফেরেন।

রুস্তম আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, এই হাটে ছোট্ট দোকান দিয়ে চা, পান, বিস্কুট বিক্রি করি। তাতেই চলে সংসার।

পশুহাটের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক গোবিন্দ কুমার রাহা বলেন, চৌগাছায় একটি মাত্র পশুহাট। কিন্তু এই হাট ধ্বংসে এক সময় ষড়যন্ত্র হয়। চৌগাছাবাসীকে সাথে নিয়ে সে ষড়যন্ত্র আমরা নস্যাৎ করে দিয়েছি।