চোরাচালানের সোনা আত্মসাৎ করায় বহনকারীকে অপহরণ করে হত্যা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বেনাপোল থেকে অপহরণের ৫ দিন পর মাগুরার রামনগর নামক স্থানে সড়কের পাশের একটি বাগান থেকে ওমর ফারুক সুমন (২৬) নামে এক যুবকের বিকৃত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করা হয়। গত ১১ নভেম্বর বেনাপোল থেকে ওমর ফারুক সুমনকে অপহরণ করা হয়েছিলো। অপহরণকারীরা তাকে হত্যার পর অ্যাসিড দিয়ে মুখমন্ডল ঝলসে দেয়, যাতে কেউ চিনতে না পারে। সে ছিল চোরাচালানের সোনা বহনকারী।
চোরাচালানীদের ৩ কোটি টাকার ৩ কেজি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে ওমর ফারুক সুমনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ।
নিহত ওমর ফারুক সুমন শার্শা উপজেলার টেংরালী গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে। অপহরণের ঘটনায় গত ১৪ নভেম্বর তার মা ফিরোজা বেগম ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেছিলেন। আসামিরা হলেন বেনাপোল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল হোসেন, তার শ্যালক এজাজ এবং শালকোনা গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও পলাশ।
যশোর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, গত ১১ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে সোনা চোরাচালানী কামাল ও তার লোকজন তাদের ৩ কেজি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে ওমর ফারুক সুমনকে অপহরণের পর মারধর করে। বিষয়টি অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন করে তা মা ফিরোজা বেগমকেও জানায়। কিন্তু অপহরণকারীরা ওমর ফারুক সুমনকে ফেরত না দেয়ায় গত ১৪ নভেম্বর তার মা ফিরোজা বেগম বেনাপোল পোর্ট থানায় কামাল ও তার লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অপহৃত ওমর ফারুক সুমনকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শংকর বিশ্বাস গতকাল মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের রামনগর নামক স্থানের একটি ঝোপের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। নিহতের মা ফিরোজা বেগম লাশটি তার ছেলে ওমর ফারুক সুমনের বলে শনাক্ত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের এসআই শংকর বিশ্বাস জানান, মামলা তদন্তকালে স্থানীয় একটি স্থানের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ৫টার দিকে বেনাপোলে ২০/২২ ব্যক্তি জোরপূর্বক ওমর ফারুক সুমনকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিচ্ছে। ফুটেজে এজাহারভুক্ত আসামি কামাল হোসেন, এজাজ, তরিকুল ইসলাম ও পলাশকে দেখা গেছে। তিনি জানান, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জানা যায় যে, অপহৃত ওমর ফারুক সুমনের লাশ মাগুরা সদর উপজেলার হাজিরপুর ইউনিয়নের রামনগর নামক স্থানে সড়কের পাশের একটি ঝোপের ভেতর রয়েছে। এই তথ্য পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে নিহতের মুখমন্ডল বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজের সূত্র ধরে ওমর ফারুক সুমন অপহরণের সাথে জড়িত দুই জনকে শনাক্তের পর আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা সদর উপজেলার হাজিরপুর ইউনিয়নের রামনগর নামক স্থানে সড়কের পাশের একটি ঝোপের ভেতর থেকে অপহৃত ওমর ফারুক সুমনের মুখম-ল বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্রটি আরও জানায়, আটক দুই অপহরণকারী পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল ও তার লোকজন ৩ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের অভিযোগে ওমর ফারুক সুমনকে অপহরণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, শ্বাসরোধে হত্যার পর নিহতের মুখম-ল অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেয়া হয় যাতে তার লাশটি কেউ চিনতে না পারে।