‘চুক্তি ছিঁড়ে বলতাম গোল্লায় যান!’—কার্লো আনচেলত্তির ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও

0
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির কঠোর সমালোচনা করছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোমারিও।। ছবি: সংগৃহীত

সেলেসাওদের ডাগআউটে কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা যেন থামছেই না। এবার ইতালিয়ান এই হাই-প্রোফাইল কোচকে অবিলম্বে ছাঁটাইয়ের তীব্র দাবি তুলেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও। কাতার কিংবা অতীতের ধকল সামলে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায় নেওয়ার পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আনচেলত্তির রণকৌশল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আনচেলত্তির বেশ কিছু খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত ও কৌশল নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তুমুল প্রশ্ন উঠেছে। মাঠের লড়াইয়ে কেন দলের সেরা তারকা নেইমারকে শুরু থেকে খেলানো হলো না, কিংবা পেনাল্টি মারার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কেন ব্রুনো গিমারাইসের মতো খেলোয়াড়কে দেওয়া হলো—এমন সব তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ম্যাচ শেষেই সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির দিকে ধেয়ে যায়। ব্রাজিল কোচ নিজের মতো করে এর ব্যাখ্যা দিলেও তা মোটেও পছন্দ হয়নি ব্রাজিলের সাবেকদের।

সাবেকদের সেই ক্ষোভের কথাই যেন এবার আরও রূঢ় ভাষায় প্রকাশ পেল রোমারিওর মুখে। তিনি কতটা ক্ষুব্ধ, তা স্পষ্ট করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, “আমি হলে তার চুক্তি ছিঁড়ে ফেলতাম। ম্যাচ শেষে আমি সভাপতি হিসেবে লকার রুমে যেতাম এবং বলতাম— ঠিক আছে, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বিদায়, গোল্লায় যান। বিষয়টি আদালতে নিয়ে যান, তারপর আমরা দেখব কী হয়।”

আনচেলত্তির ম্যাচ পরিচালনার কৌশলগত ভুলগুলোর ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে রোমারিও আরও যোগ করেন, “সে কী ভাবছিল আমি তো সেটাই বুঝতে পারলাম না। গিমারাইসকে তুলে নিয়ে এদেরসনকে রাইটব্যাকে খেলানো হলো! আর এটা আপনি এ কারণে করলেন; কারণ, আপনি অন্য কোনো ফুলব্যাক দলে ডাকেননি? একজন ফুলব্যাক চোট পেল আর আপনি সেখানে একজন সেন্টারব্যাককে নামিয়ে দিলেন?”

বিশ্বমঞ্চের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের এই লজ্জাজনক বিদায়ের পর আনচেলত্তির পদে থাকার কোনো অধিকার নেই উল্লেখ করে রোমারিও বলেন, “এই মহাবিপর্যয় এবং লজ্জাজনক পরিস্থিতির পর আনচেলত্তি কোনোভাবেই ব্রাজিলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন না। আমি আগের তিনটি শোতেও এটি বলেছি এবং এখানেও আবার বলছি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ পরিস্থিতি বদলাতেই হবে। আমাদের দুঙ্গা ছিল, সে হেরেছে এবং চলে গেছে। আমাদের ফেলিপে স্কলারি ছিল, সে বিশ্বকাপ জিতেছে এবং থেকে গেছে। আমাদের তিতে ছিল, সে হেরেছে, থেকে গেছে এবং আবারও হেরেছে। আর এখন আমাদের এই আনচেলত্তি আছে, যে হেরেছে এবং এখনো থেকে যাচ্ছে।”

নরওয়ের কাছে হেরে হেক্সা মিশনের স্বপ্নভঙ্গের পর সেলেসাওদের ভবিষ্যৎ এবং কোচিং প্যানেল পুনর্গঠন নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, রোমারিওর এই বিস্ফোরক মন্তব্য তাতে নতুন করে ঘি ঢালল।