চার্জার লাইট আর মোবাইল ফোনের আলোয় ৭ নবজাতকের জন্ম

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের রাতে বিদ্যুৎহীন ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেই একে একে সাতজন অসুস্থ প্রসূতিকে নিয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হন স্বজনরা। সোমবার প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির মধ্যেই তারা মোংলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন সরকারি এ চিকিৎসালয়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক প্রকার ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছিল।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা খবর দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহীন হোসেনকে। তিনি দ্রুত এসে বাকি সব চিকিৎসক ও সেবিকাদেরও আনার ব্যবস্থা করেন।
এরপর একে একে শুরু হয় প্রসূতি মায়েদের সেবা। ভোর থেকেই বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে চার্জার লাইট, মোবাইল ফোনের টর্চ ও মোমবাতির আলোয় প্রসূতিদের সন্তান প্রসবের কাজ শুরু হয়। এভাবে রাতেই সাতজন প্রসূতি মায়ের ডেলিভারি সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা।
প্রসূতি মায়েরা হলেন মোংলার মাকড়ঢোন এলাকার সোহাগ সরদারের স্ত্রী মুক্তা (১৯), সিগনাল টাওয়ার এলাকার জাকির হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা (৩৩), আরাজী মাকড়ঢোন এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী বনানী (১৯), মালগাজী এলাকার মানিক শেখের স্ত্রী মিলা (২৬), ভাসানী সড়কের আবুল হোসেনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪২), নাড়িকেলতলার মজিবর হাওলাদারের স্ত্রী রাজিয়া (৩০) ও বাঁশতলা এলাকার মাছুমের স্ত্রী নাঈমা (২০)। সকলেরই স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও নবজাতকরা সুস্থ আছেন। এদের কেউ কেউ মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। কেউ কেউ এখনো হাসপাতালে রয়েছেন।
ডা. শাহিন হোসেন বলেন, সাতজন মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন। আগামীতেও এভাবেই যে কোনো দুর্যোগে আমরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে প্রস্তুত।