খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় নির্যাতিত হলেও দেশ ত্যাগ করেননি : নার্গিস বেগম

নরেন্দ্রপুরে নাগরিক শোকসভায়

0

রূপদিয়া (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় নির্যাতিত হলেও দেশ ত্যাগ করেননি। তিনি নিজেকে উংসর্গ করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে শুধু জাতি নয় গোটা বিশ্বে মহান নেত্রী হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম আজ বিকেলে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত নাগরিক স্বরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি বলেন, শূন্য রাজকোষের দায়িত্ব গ্রহণ করেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুদূরপ্রসারী ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি করেন। দেশ ও গণতন্ত্রকে ভালোবেসেই তিনি কখনো দেশ ছাড়েননি।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে, যুগোপযোগী বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আজীবন স্বপ্ন ছিল একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে নারী শিক্ষায় তার অবদান ছিল ঐতিহাসিক। তিনি সমাজের কাঠামো পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ তার নারী শিক্ষা কার্যক্রমকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে। যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, নারী সমাজকে বিশ্বের মানচিত্রে মর্যাদার আসনে পৌঁছে দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। তিনি শত্রু-মিত্র চিনতেন। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর কখনো প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি।

তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রত্যাশা ছিল একটি মানবিক, সাম্যের ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

মঙ্গলবার বিকেলে রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি মাঠে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

শোকসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিশ্বাস।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর পূর্ব জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও জিরাট আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান খন্দকার, রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল চৌধুরী, শাখারীগাতি এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমির প্রধান শিক্ষক বিএম জহুরুল পারভেজ, রূপদিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জাফর ইকবাল ও নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মোহন লাল দাস।

উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মিঠু, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ রাসেল প্রমুখ।

শোকসভা ও দোয়া মাহফিল সঞ্চালনা করেন যশোর সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসানুর রহমান শাকিল ও নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ ইসমাইল হোসেন।