খানজাহান আলীর মাজারের কুমিরের গন্তব্য নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

0
খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রাখা মাজারের উদ্ধার করা মাদি কুমির।। ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের বিশ্বখ্যাত হজরত খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে আনা মাদি কুমিরটিকে কোথায় স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
তবে সাফারি পার্ক বা অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে একে স্থানান্তরের প্রস্তাব গত মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

একই সঙ্গে, মাজারের দিঘির জন্য নতুন দুটি কুমির চেয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করা মাজার কর্তৃপক্ষের একটি আবেদনও সম্প্রতি বন বিভাগের হাতে পৌঁছেছে।

গত বছরের আগস্টে মাজার কর্তৃপক্ষের করা ওই আবেদনটি আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পর্যালোচনার জন্য ঢাকার বন সংরক্ষক ও বন্য প্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ বছর বয়সী ও চারশ থেকে পাঁচশ কেজি ওজনের এই মাদি কুমিরটি বর্তমানে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। তবে এ ধরনের অস্থায়ী কেন্দ্রে কোনো বন্য প্রাণীকে দীর্ঘ মেয়াদে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত এলে তাকে স্থায়ী ও উপযুক্ত বাসস্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, দিঘি থেকে উদ্ধারের পর প্রায় দুই মাস অতিক্রম করলেও কুমিরটি এখনো কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। তবে এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে বন বিভাগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দি অবস্থায় কুমির দীর্ঘ দিন না খেয়ে থাকলেও আশঙ্কাজনক কিছু নেই এবং জোর করে খাওয়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। বন বিভাগ জানায়, এরা দুই-চার মাস এমনকি এক-দুই বছর পর্যন্তও খাবার না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

গত ১ জুন মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটালে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় স্থানান্তর করে বন বিভাগ। বর্তমানে কুমিরটির ভাগ্য এবং মাজারের দিঘিতে নতুন কুমির সংযোজনের বিষয়টি পুরোপুরি বন বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।