কেশবপুরে কিশোর তরিকুল হত্যাকাণ্ডে ভাই-ভাবি ও মায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া (পাঁচআনি পাড়া) গ্রামের কিশোর তরিকুল ইসলাম (১৫) হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। চার্জশিটে ওই কিশোরকে খুনের ঘটনায় ভাই শরিফুল ইসলাম, ভাবি জেসমিন আরা এবং মা মোছা. রাশেদা বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সকালে সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের ছেলে তরিকুল ইসলামের জবাই করা লাশ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কেবশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই কামরুজ্জামান তদন্তের দায়িত্ব পান। পরে ডিবি পুলিশের এসআই আবুল খায়ের মোল্যাও মামলাটি তদন্ত করেন। পরে ডিবি পুলিশ মামলাটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তরিকুল ইসলামকে কারা কীজন্যে খুন করেছেন। মূলত ভাই শরিফুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আরার সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিলো। যা ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর রাতে শরিফুল ইসলাম গোপনে স্বচোখে দেখেন। ওইদিন রাতে শরিফুল ইসলাম, জেসমিন আরা ও তরিকুল ইসলাম একই খাটে শুয়ে টেলিভিশন দেখছিলেন। পূর্বে থেকে স্ত্রীর সাথে ভাইয়ের অনৈতিক সম্পর্ক আছে টের পেয়ে ঘটনাটি হাতেনাতে ধরতে শরিফুল ইসলাম খাটে শুয়ে ঘুমের ভান করেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম ঘুমিয়ে আছেন মনে করে তরিকুল ইসলাম ও জেসমিন আরা পাশের ঘরে গিয়ে অনৈতিক কর্মকা-ে লিপ্ত হন। তাদের পিছু পিছু গোপনে গিয়ে শরিফুল ইসলাম স্বচোখে এ দৃশ্য দেখতে পান। পরে তিনি আবার খাটে এসে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ পর তরিকুল ইসলাম ফিরে এসে ভাইয়ের পাশে শুয়ে পড়লে এই সুযোগে তার গলাটিপে ধরেন শরিফুল ইসলাম। এর ফলে তরিকুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিন্তু সে মারা গেছে ভেবে স্ত্রী জেমসিন আরাকে ভয় দেখিয়ে এবং তার সহায়তায় অচেতন তরিকুল ইসলামকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরিকুল ইসলামকে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের জমিতে পানি সেচ দেওয়ার ভান করার জন্য সেখানে যান শরিফুল ইসলাম। এরপর তরিকুল ইসলামের লাশের কাছে এসে কান্নাকাটি ভান করতে থাকেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ এসে তরিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে। এরপর প্রচার করা হয়, ৩ অক্টোবর গভীর রাতে কে বা কারা তরিকুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু পিবিআই’র তদন্তে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হয়। তদন্তে পিবিআই জানতে পারে যে, মা মোছা. রাশেদা বেগমের সন্দেহ হওয়ায় ছেলে শরিফুল ইসলাম এবং ছেলের স্ত্রী জেসমিন আরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা খুনের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু মোছা. রাশিদা বেগম এ ঘটনা চেপে যান। শুধু তাই নয়, জেসমিন আরার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি এবং তার ছেলে শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল পিতার বাড়ি থেকে আনতে বাধ্য করেছেন।