কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রকে বেধড়ক পেটালেন শিক্ষিকা

0

শিপলু জামান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) ॥ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে তুচ্ছ ঘটনায় বেধড়ক পিটিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ঘটনার শিকার অর্ঘ্য ঘোষ নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।
অর্ঘ্য জানায়, ‘বুধবার অন্যান্য দিনের ন্যায় বাংলা ক্লাসে পাঠদানের জন্য আসেন শিক্ষিকা সাখী সুলতানা। শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই তিনি সকলের কাছে বই আছে কিনা চেক করেন। এক পর্যায়ে আমার কাছে এসে দেখতে পান সামনে বাংলা বইয়ের ‘তথ্য প্রযুক্তি’ গল্পটি বের করা। ম্যাডাম ভেবেছেন আমি মনে হয় তথ্য প্রযুক্তি বইটি বের করে রেখেছি। তাই রেগে তিনি আমাকে প্লাস্টিকের লাঠি দিয়ে দুই হাতে, পিঠে ও পায়ে অনেকগুলো আঘাত করেন। এর ফলে আমার শরীরে বেতের দাগ দৃশ্যমান হয় এবং বেশ কিছু স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এটা বাংলা বইয়ের তথ্যপ্রযুক্তি গল্প, তথ্য প্রযুক্তি বই নয় এ কথা বলেও ম্যাডামকে আমি বোঝাতে পারিনি।’ অর্ঘ্য কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মাহাতাব উদ্দিন কলেজপাড়া নিবাসী অরুপ কুমার ঘোষের ছেলে।
অর্ঘ্যরে কাকা শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ জানান, ‘অর্ঘ্যকে স্কুলশিক্ষিকা যেভাবে মেরেছেন সেভাবে একটি পশুকেও মারা হয় না। আমি একজন শিক্ষক হয়ে ওই শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষিকা সাখী সুলতানার সাথে তার ০১৭১৯৬২৮৫৭৮ নম্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতার সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মধুসুধন সাহা জানান, ‘সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমন একটি ঘটনা আমি শুনেছি। এদিন কী ঘটেছিল ভালোভাবে সেটা আমি আগে জানবো । তবে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করা শিক্ষানীতি বহির্ভূত একটি কর্মকা-। এ ধরনের কর্মকা-ে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কিছু নয়। শারীরিকের পাশাপাশি প্রাইভেটের জন্য মানসিকভাবেও শিক্ষার্থীদেরকে নির্যাতন করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রাইভেটের রমরমা বাণিজ্য শুরু করেছেন এই বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক। যে কারণে এখন সর্বমহলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।