কালীগঞ্জে এজেন্ট ব্যংকের গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট এজেন্ট শাখার গ্রাহকদের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের ভুয়া চেক তৈরি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন গাজীর বাজার এজেন্ট শাখার ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুমের শ্বশুর কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ওলীউর রহমানের মধ্যস্থতার আশ্বাস সত্ত্বেও টাকা ফেরত না পেয়ে রাস্তায় নেমেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষক ও দিনমজুররা।

টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মধুগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন প্রতারিত গ্রাহকরা। মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইসলামী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার প্রধান ব্যবস্থাপক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের ১৫ জুনের পূর্বে গাজীর বাজার শাখাটির ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ স্থানীয় স্বল্পশিক্ষিত ও নিরক্ষর গ্রাহকদের সরলতার সুযোগ নেন। তিনি ভুয়া চেক তৈরি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ৩০ জন গ্রাহকের জমানো মোট ৯২ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা বেআইনিভাবে তুলে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১৫ জুলাই টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তিনি অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দুটি সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমুদয় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ টাকা না দিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহর শ্বশুর কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ওলীউর রহমান। তিনি নিজে পবিত্র মসজিদের মিম্বারে বসে স্থানীয়দের সামনে জামাতার আত্মসাৎ করা টাকা সসম্মানে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অনেক দিন পার হলেও তারা গরিব কৃষক ও দিনমজুরদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাজীরবাজার এজেন্ট শাখার ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে ফোন রিসিভ করেননি।

তবে জামাতার টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করলেও টাকা ফেরতের ওয়াদা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ওলীউর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমার জামাতা মাসুম নিখোঁজ রয়েছে। আমি গ্রাহকদের শুধু এতটুকুই বলেছিলাম যে মাসুমের সন্ধান পাওয়া গেলে বা যোগাযোগ করা গেলে ষিয়টির সুরাহা করা হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে টাকা ফেরতের কোনো দায়বদ্ধতা নিইনি।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার প্রধান ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়ভাবে আয়োজিত শালিসে টাকা ফেরতের বিষয়টি উঠে এসেছিল। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আমার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এজেন্টের কাছে ৩০ জন গ্রাহকের লেনদেন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে যদি প্রমাণিত হয়, টাকা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল, তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সেই অর্থ ফিরিয়ে দিতে আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে কাজ করবে।