একটি পরিবারের কয়েক মাসের বেদনাদায়ক গল্পের শেষ অধ্যায়

0

শিকদার খালিদ, লোকসমাজ :

একটি আমগাছ।
আর সেই গাছেই ঝুলছিল ৬৫ বছরের রবিউল ইসলামের মরদেহ।

৬ অক্টোবর ভোরে যশোরের চৌগাছার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মানুষ এই দৃশ্য দেখেন। কিন্তু রবিউলের এই মৃত্যু যেন একটি পরিবারের কয়েক মাসের বেদনাদায়ক গল্পের শেষ অধ্যায়।

গল্পের শুরু এ বছরের ২০ জানুয়ারি।

পারিবারিক ব্যবসার দোকান খুলতে দেরি হওয়া নিয়ে ছেলে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বাবা রবিউলের বিরোধ হয়। স্বজনদের ভাষ্য, তরিকুলের মাদকাসক্তি এবং পরিবারের কাজে তার অনীহা নিয়েও বাবার মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।

সেদিনের বিরোধ একপর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, রবিউল কোদাল দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী ছেলে তরিকুলকে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত তরিকুলকে প্রথমে যশোর, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২২ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেন রবিউলের নিজের ভাই আসাদুল ইসলাম। ছেলে হত্যার মামলার আসামি হয়ে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রবিউল। প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর আগস্টে জামিনে বাড়ি ফেরেন।

কিন্তু বাড়িতে ফিরেও যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।

স্বজনদের ভাষ্য, রবিউল অনেকটা একাকী হয়ে পড়েছিলেন। কয়েক দিন দোকান খোলার পর সেটিও বন্ধ করে দেন। কমে যায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ।

এরপর ৬ অক্টোবর ভোরে বাড়ির সামনে আমগাছ থেকে উদ্ধার হয় রবিউলের ঝুলন্ত মরদেহ।

স্বজনদের ধারণা, ছেলে হত্যার মামলার চাপ, কারাভোগ এবং পরবর্তী একাকীত্ব তাকে গভীর হতাশার মধ্যে ফেলেছিল।

একটি পারিবারিক বিরোধ থেকে ছেলের মৃত্যু, এরপর সেই মামলার আসামি বাবারও মৃত্যু—জাহাঙ্গীরপুরের এই ঘটনা রেখে গেল একের পর এক প্রশ্ন।