কলারোয়ায় রুপালী ইলিশ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে

0

 

কাজীরহাট (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ আজকের শিশুর কাছে ‘রুপালী ইলিশ’ রুপ কথায় পরিণত হতে চলেছে। ষাট ও সত্তরের দশকে জৈষ্ঠ্য মাসের শেষে কলারোয়ার গ্রামে গঞ্জের হাট বাজারে রুপালী ইলিশ আসা শুরু হত। আর বর্ষাকাল থেকে শরৎকালের শেষ অবধি মাঠঘাট নালা ডোবায় পাওয়া মলাঢেলা, কই, শিং, মাগুর, চ্যাং, বেতলা, শোল, ট্যাংরা, বাইনসহ নানা প্রকার মাছে গ্রামের মানুষের বাড়ি ভরে থাকত। বাড়তি মাছ পাওয়ার কারণে পুটি আর চিংড়ির শুটকি তৈরি করা হত। বাড়িতে এসব মাছ থাকার পরেও রসনা বিলাসী বাঙালির বাড়ি রুপালী ইলিশ ছাড়া চলে কি? গ্রামের হাট বাজারগুলো ভরে যেত ইলিশে। হাটের(বাজার) দিনে বাড়ি বাড়ি আনা হত রুপালী ইলিশ। প্রতি হাটের দিন সন্ধ্যার পরে ইলিশের মনোলোভা সুগন্ধে পাড়া মহলাগুলো সুবাসিত হয়ে উঠত। আর সকালে ভাজা ইলিশ নয়, পান্তা ভাতের সাথে ইলিশের ঝোলে জমে উঠত খাওয়ার আনান্দ। আর অনেক পরিবারে পরদিন ঝোলের ইলিশ মাছ আগুনে শুকিয়ে সেই ইলিশ দিয়ে মজাদার সব তরকারি রান্না খাওয়া হত। আর দুই আড়াই কেজি ইলিশের তেলের মজা ছিল আলাদা। তখন কলারোয়ার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদে মাঝে মাঝে কৃষক আর জেলের জালে ইলিশ ধরা পড়ত। তাই প্রায় আশ্বিন মাসের শেষ অবধি গ্রামের বাঙালি পরিবারে চলত ইলিশ খাওয়ার ধুম। কিন্তু আশির দশকের শেষ ভাগে এসে গ্রামের হাট বাজারে ইলিশে ভাটা পড়তে শুরু করে। আর দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে থাকে। ২০০০ সালের পরে ক্রমান্বয়ে ইলিশ মাছ দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ইলিশ একেবারে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। এখন গ্রামগঞ্জের হাট বাজারে বছরে ১/২ দিনের বেশি ইলিশের দেখা মেলে না। কিছু চাকরীজীবী আর গ্রামের ৫/১০ জন ধনাঢ্য পরিবার এর ক্রেতা। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সেই ইলিশ কেনা সম্ভব হয় না। ফলে আজকের প্রজন্মের বেশির ভাগ শিশু ইলিশ মাছ চিনে না। কোনদিন ইলিশ মাছ দেখেনি। মজাদার সুস্বাদু ইলিশ তাদের কাছে রুপকথার গল্প। জাটকা শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পরে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির খবর প্রচারে মানুষের মনে আবার আশা জাগে। কিন্তু শাকদা গ্রামের ৮০ বছরে প্রবীণ ইসলাম, দাড়কির ৭০ বছরের বৃদ্ধ শওকত, সোনাবাড়িয়ার আজিজ (৭৯) আবার লোভাতুর হয়ে পড়েন মজাদার পান্তা ইলিশ, ভাজা ইলিশ, ইলিশ পোলাও খাওয়ার আশায়। কিন্তু ইলিশের দাম কমেনি। সেই সংগে দুষ্প্রাপ্যতা প্রকট। ইলিশ পেতে হলে শহরে যেতে হয়। তাই প্রবীণ মানুষগুলোর ইলিশ খাওয়া দূরাশায় পরিণত হয়েছে।