কপোতাক্ষ নদ খননে অনিয়মের অভিযোগ

0

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর)॥ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক কপোতাক্ষ নদ প্রথম পর্যায়ের খননের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষসহ যশোরবাসী এর পরিপূর্ণ সুফলভোগী হতে পারেনি। এবারও পারবে কিনা সে ব্যপারে যথেষ্ট সংশয়-সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। কপোতাক্ষনদ খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশয় প্রকাশ, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে কথাগুলো বলছিলেন, ‘কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন’ যশোর জেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। গতকাল শুক্রবার সকালে কপোতাক্ষ নদের ঝিকরগাছা-চৌগাছা অংশের খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কপোতাক্ষ নদ খননে অনিয়ম অব্যবস্থাপনারও অভিযোগ করেন।
ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, নদের দু পাড়ের পুরনো সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ করে কপোতাক্ষ নদ খনন করার দরকার ছিলো। কিন্তু সেটি করা হচ্ছে না। মাঝ বরাবর কাটার ফলে নদের জায়গা আরও সংকুচিত হচ্ছে। পরিণত হচ্ছে সরু খালে। নদের মাঝ বরাবর মাটি কেটে দু পাড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে সমাগত বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির ঢল নামলে এসব মাটিতে খননকৃত জায়গা আবার ভরাট হয়ে যাবে। মাঝ বরাবর খননের ফলে নদের মূল সীমানার অবশিষ্ট জায়গা দখলবাজ ভূমিদস্যুরা স্থায়ীভাবে দখলদার হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দখলবাজদের আরও উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন তিনি।
কপোতাক্ষ বাাঁচাও আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, পাউবো নিজেরাই নদীর তট আইন মানে না। তারা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। কপোতাক্ষের ২য় পর্যায়ের খনন কাজের সিডিউল বোর্ড লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এই প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছেনা। কাজের সিডিউল বোর্ডটি ঝিকরগাছা সড়ক ব্রিজ সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় স্থাপন করা দরকার। এই বিষয়টি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ঝিকরগাছার গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজের সিডিউল অনুযায়ী বিস্তারিত দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, যশোরের ঐতিহ্য কপোতাক্ষ নদ যখন মৃতপ্রায়, জলাবদ্ধ মানুষের মানবেতর জীবন-যাপন ঠিক তখন ২০০৩/০৪ সালে কপোতাক্ষ বাঁচাও নামে একটি বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। যাতে কপোতাক্ষ অববাহিকার হাজার হাজার মানুষ অভিন্ন দাবিতে এই সংগঠনের সাথে একাত্বআ প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন। আজকের এই কপোতাক্ষ খনন তারই একটি অংশ। কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আশা করছে, কাজের সিডিউল অনুযায়ী কপোতাক্ষ খনন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, কপোতাক্ষ নদের নাব্য ফেরাতে এবং টেকসই উন্নয়নে ভৈবর-মাথাভাঙ্গা সংযোগ কপোতাক্ষ না হলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো অসম্ভব। ভৈবর-মাথাভাঙ্গার সাথে পদ্মার সংযোগ স্থাপন জরুরি। চৌগাছার তাহেরপুর থেকে দর্শনার ভৈরব ও মাথাভাঙ্গার সংযোগ স্থাপন করা হলে কপোতাক্ষকে আবারও তার অতীত ঐতিহ্যের ধারায় ফেরানো সম্ভব। এব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২২কি. মি. প্রায় ৪শ কোটি টাকার পুনঃখননের একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু সেটি কেনো বাস্তবায়ন করা হলো না সেটি বোধগম্য না।
ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, তাদের জানামতে, ঝিকরগাছা সড়কসেতু থেকে উজান অংশে ৮১কিলোমিটার ও রেলসেতু থেকে ভাটি অংশে ৭৯কিলোমিটার নদ খননের কথা রয়েছে। তবে যে গতিতে কাজ চলমান রয়েছে তাতে বর্ষা মৌসুমের আগে খনন সম্ভব হবে কিনা সে ব্যপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য মো. রবিউল ইসলাম, শাহিনুর রহমান শাহিনসহ অন্যরা।