অপরিকল্পিত অর্থ অপচয় নয়, খনিজ সম্পদের সমন্বিত ম্যাপিংয়ের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের

0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিগত দিনের মতো অপরিকল্পিত প্রকল্প হাতে নিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি অননুমোদিত প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা প্রমাণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের খনিজ সম্পদের একটি সমন্বিত ও আধুনিক তথ্যভিত্তিক মানচিত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অননুমোদিত প্রকল্প গ্রহণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণবিষয়ক পৃথক দুটি সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের খনিজ সম্পদ রয়েছে, তার একটি সুস্পষ্ট ভৌগোলিক ও তথ্যভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্লক ম্যাপ, ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহকে সমন্বিত করে একটি আধুনিক জাতীয় ম্যাপিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ সম্পদের অবস্থান ও সম্ভাবনার সঠিক চিত্র হাতে থাকলে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে জোনভিত্তিক জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করতে হবে। কোথায় কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

পরে বিদ্যুৎ বিভাগের অননুমোদিত প্রকল্পসমূহ গ্রহণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত শুনেন। তিনি প্রতিটি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থে এর অবদান এবং বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা যাচাই করে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর জোর দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণে জনগণের অর্থের অপচয়ের যে নজির রয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সেবার মান ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

সভাগুলোতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।