এখনও ঠিক হয়নি পদ্মা রেল সংযোগ রুটে টেনের হুইসেল বাজানোর দিনক্ষণ

0

সাইফুর রহমান সাইফ॥ অপেক্ষার পালা যেন শেষই হচ্ছে না। এখনো ঠিক হয়নি ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের’ ১৭২ কিলোমিটার রেলপথে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন ছোটার দিনক্ষণ। এর আগে কয়েকবার দিনক্ষণ ঠিক করে শেষমেষ তা আর কার্যকর করা যায়নি। শনিবার রাতে রেলওয়ের তথ্যসেবা বিভাগ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন সূত্রে যোগাযোগ করে এমন তথ্য মিলেছে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, এখনও ঠিক হয়নি ট্রেন চলাচলের শিডিউল। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চালুর সম্ভাবনা নেই বলে তিনি আভাস দেন।
এর আগে রেলওয়ে সূত্র থেকে পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা ও যশোরে ট্রেন চলাচলের জন্যে প্রথমে নভেম্বর ও পরে ডিসেম্বরের সূচনার দিন ঠিক করা হয়। সে অনুয়ায়ী যাত্রীসহ অন্যরা প্রস্তুতি নেন। যশোর বঞ্চিত হওয়ায় বিক্ষোভের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। শনিবার এ নিয়ে যশোরে সংবাদ সম্মেলনও হয়। কিন্তু গতরাত পর্যন্ত ঠিক হয়নি সে দিনক্ষণ।
রেলওয়ের তথ্যসেবা বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম গতরাতে এ ব্যাপারে কোনো তথ্যই দিতে পারেননি। তিনি বলেন, রেলওয়ের ওয়েবসাইটে দিনক্ষণ পরে সব জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকার রেলওয়ের চিফ কন্ট্রোলারের কার্যালয়ও কিছু জানাতে পারেনি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু ও ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী হয়ে ট্রেন চললে যশোর-খুলনা রেলপথে যাতায়াতের দূরত্বের সময় কমবে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার মতো ও যশোর-বেনাপোল রেলপথে ৪ ঘণ্টার মতো হবে। পথ কমবে প্রায় অর্ধেক। তাই এই পথে এক এক জোড়া ট্রেনকে দুইবার চালানোর কথাও ভাবছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
গত বছরের ১০ অক্টোবর পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে প্রথম বাণিজ্যিক আন্তঃনগর ট্রেন চালানো হয় ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। সে সময় পুরো প্রকল্পের ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে উদ্বোধন করা হয় মাত্র ৮২ কিলোমিটার। ভাঙ্গা জংশন স্টেশন থেকে মুকসুদপুর, লোহাগড়া, নড়াইল হয়ে প্রকল্পের বাকি ৯০ কিলোমিটার রেলপথ ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়। এ অবস্থায় প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রেলপথে গত ২০ নভেম্বরের মধ্যে ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রকল্পটিতে লুপ লাইন ও সাইড লাইন রয়েছে ৪৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য ২১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘প্রভাতি’ ও ‘গোধূলী’ নাম দিয়ে চালানো হতে পারে ট্রেন। এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, ঢাকা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেস।
প্রকল্পের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু, ভাঙ্গা, রাজাবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর হয়ে খুলনার দূরত্ব ৪১২ কিলোমিটার। কিন্তু নড়াইল হয়ে যশোরের পদ্মবিলা জংশন রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত প্রকল্পের রেলপথটি ১৭২ কিলোমিটার। ফলে এই পথে খুলনা যেতে দূরত্ব কমে দাঁড়াবে ২৪০ কিলোমিটার। যা সময়ের হিসেবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা কম লাগবে। বর্তমান পথে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ৪১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। প্রকল্পের রেলপথ দিয়ে ট্রেনটি ৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান রুটে বেনাপোলগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩৬৫ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। প্রকল্পের পথ দিয়ে যশোর হয়ে বেনাপোল যেতে ট্রেনটিকে পাড়ি দিতে হবে ১৯৩ কিলোমিটার পথ। ফলে এই পথে ট্রেনটির বেনাপোল যেতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘন্টা। সময় সাশ্রয় হবে ৪ ঘন্টা।