উদ্বোধনের চার বছর পার: শেষ হয়নি গাজিরদরগাহ মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মান কাজ

0

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর)॥ ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের প্রায় চার বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীরদরগাহ ফয়জাবাদ কামিল (বিএ) মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ। ফলে, অনিশ্চয়তা কাটছেনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২কোটি ৮৮লাখ টাকা ব্যয়ের ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটির নির্মাণের ভবিষ্যৎ। গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এই ভবনের উদ্বোধন করেন যশোর-২ আসনের তৎকালিন এমপি অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির। একই সময়ে উপজেলার বেজিয়াতলা ও সোনাকুড় মাদ্রাসার ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ শেষে অতিসাম্প্রতিক বেজিয়াতলা ও সোনাকুড় মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন দুটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু অনিশ্চয়তার ঘোর কাটছেনা গাজীর দরগাহ ফয়জাবাদ কামিল (বিএ) মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের। ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোরের সহকারি প্রকৌশলী একেএম জহুরুল ইসলাম সাক্ষরিত এক লিখিত তাগাদাপত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যশোর সদরের বালিয়া ভেকুটিয়ার মেসার্স ইউসিএল-এমএসই (জেডি) বরাবর স্মারক নং- এই/ইইডি/২০২১/ তাং-২৩/১১/২১ইং প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘গাজীরদরগাহ মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ যার স্মারক নং- ইই/ইইডি/জেজেড/২০১৯/১৩৩৬। মোতাবেক বারবার মৌখিক তাগিদ দেবার পরও কাজ শুরু করার ব্যাপারে আপনার চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইহাতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়াসহ মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশের ভিষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমতাবস্থায় কাজটি শুরু করার বিষয়ে আপনাকে জোর তাগিদ দেওয়া হলো। অন্যথায় পরবর্তীতে কোন জটিলতা তৈরি হলে সকল দায়দায়িত্ব আপনার প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। পত্রের অনুলিপি কপি প্রধান প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনা, নির্বাহী প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর, ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোর বরাবর প্রেরিত হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে যোগাযোগ করলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। এব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এম শাহাজান আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তীতে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ এইচ এম শহিদুল ইসলাম জানান, একাডেমিক ভবনটির নির্মাণ সমাপ্ত না হওয়ার ফলে আমরা অফিসকক্ষ, লাইব্রেরি ও শ্রেণিকক্ষ মিলে জায়গা স্বল্পতার সমস্যায় আছি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে শিশু শ্রেণি থেকে কামিল পর্যন্ত ৫০৮ জন ছাত্র ও ২২৪জন ছাত্রী অধ্যয়নরত। এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩২জন।