ইউক্রেনে টানা বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকেও সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি

0
নিজস্ব ড্রোনের প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সদ্য সাবেক সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি ।। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের এক অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতায় পড়েছে ইউক্রেন।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণকে কেন্দ্র করে টানা ছয় দিন ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভের মুখে এবার দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান (কমান্ডার ইন চিফ) ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে পদচ্যুত করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে মিখাইলো দ্রাপাতিকে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন যে, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে ‘নতুন গতি’ সঞ্চার করতেই মিখাইলো দ্রাপাতিকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিদায়ী সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং নতুন নিযুক্ত দ্রাপাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন প্রেসিডেন্ট।

ঘটনাবলীর সূত্রপাত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। বরখাস্ত হওয়ার আগে ফেদোরভ প্রকাশ্যে তৎকালীন সেনাপ্রধান সিরস্কির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ফেদোরভ ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ ও যুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়াতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন, যা ‘প্রাচীনপন্থী’ হিসেবে পরিচিত সিরস্কি বাধাগ্রস্ত করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে ফেদোরভকে পদচ্যুত করা হলে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী কিয়েভ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশটির অন্যান্য শহরে বিস্তৃত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা সিরস্কির অপসারণের জোরালো দাবি তোলে।

এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান দানিয়েল বেল জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ইউক্রেনে অন্তত ১ হাজার ৩৯৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৭,৯৭৮ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়তে থাকা প্রাণহানি এবং কৌশলগত ব্যর্থতার কারণে সাধারণ জনগণের একাংশ জেলেনস্কি ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারাচ্ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে সেনাপ্রধানের এই অপসারণ কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। আন্দোলনকারীরা কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং যুদ্ধে আরও কার্যকর সামরিক কৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আসছেন।