আলমডাঙ্গায় কিশোর রাফিজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেফতার

0
ছবি: সংগৃহীত।

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় অপহরণের পর কিশোর রাফিজ মিয়া হত্যা(১৫) মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের আমেনা খাতুনের (৫৬) নাতি রাফিজ মিয়াকে (১৫) গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কৌশলে মোবাইল ফোনে ডেকে অপহরণ করে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অপহরণকারীরা বাদিনীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তার নাতি রাফিজ মিয়াকে ছাড়ানোর জন্য ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একই সাথে বিষয়টি কাউকে জানানো হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে তারা একই নম্বর হতে একাধিকবার কল করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় গত ১০ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসামি লাল্টু মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, রাফিজ মিয়ার বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে অবস্থান করায় তাকে অপহরণ করলে মোটা অংকের টাকা আদায় সম্ভব হবে বলে তারা পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিরা ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তাকে ডেকে আনে।

এরপর মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে অর্জুন খালের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তারা রাফিজের হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে কল করে নির্যাতনের চিৎকার শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরবর্তীতে রাফিজের পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেপ্তার হওয়া লাল্ট মিয়াসহ অন্যান্যরা দঁড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে এবং তার মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে যায়।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরেও একাধিকবার আসামি লাল্টু মিয়া মোবাইল ফোনে মুক্তিপণের টাকা দাবি অব্যাহত রাখে। গ্রেফতার হওয়া আসামির দেখানো মতে হত্যা কাজে ব্যবহৃত দঁড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

আলমডাঙ্গা থানার ইনস্পেক্টর হোসেন আলী জানান, মামলার প্রধান আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১) চুয়াডাঙ্গা সদর থানার শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ২টি হত্যা এবং এই ঘটনাসহ সর্বমোট ৩টি হত্যা মামলার আসামি।