আরও একটি লাশ উদ্ধার, শার্শা সীমান্তে নিহত ৩

0
আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর) ।।  যশোরের শার্শা সীমান্তে আরও একটি লাশ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় সাকিবুল হাসান (২০) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে আজ (বুধবার) একই স্থান থেকে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ ও বিজিবি। স্থানীয়দের ধারণা ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ বাংলাদেশ সীমান্তে রেখে গেছে।
সাকিবুল হাসান শার্শা উপজেলার সাহাজাদপুর গ্রামের জামিল ঢালির ছেলে।
নিহত অন্য দুই জন হচ্ছেন বেনাপোল পোর্ট থানার দিঘীর পাড় গ্রামের মৃত আরিফ হোসেনের ছেলে সাবু হোসেন(৩৫) ও কাগজপুর গ্রামের মৃত ইউনুস আলী মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৬)।
পৃথকভাবে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়েছে । এলাকাবাসীর অভিযোগ ভারতের বিএসএফের নির্যাতনে এদের মৃত্যু হয়েছে।  নির্যাতনের পর এদের বাংলাদেশে ফেলে রেখে যায়।
পুলিশ জানায়,সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১বিজিবি) এর পাঁচ ভুলাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মেইন পিলার ১৭/৭এস এর ১০২আর পিলার থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে ৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতি নদীর পাড়ে ভান্ডারীর মোড় নামক স্থানে জাহাঙ্গীরের লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় বাংলাদেশের সীমান্তে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে শার্শা থানার এসআই আওয়াল হোসেন ও এসআই কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গিয়ে বিজিবির উপস্থিতিতে লাশ নদী তীর থেকে উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় এর জন্য ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতের পরিবার থেকে জানিয়েছে,  গত রাতে চোরাচালানের উদেশ্য ভারত সীমান্তে গমন করেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, সে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক আটক হয়ে মারধরের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসার সময়ে মৃত্যু বরণ করে।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার দীঘীরপাড় গ্রামের মৃত আরিফ হোসেনের ছেলে সাবু  হোসেন উপজেলার পুটখালী  ইউনিয়নে ইছামতি নদী সাঁতার দিয়ে ভারতীয় গরু পারাপারের জন্য ভারত সীমান্তে গেলে বিএসএফ’র হাতে  আটক হয়। বিএসএফ  তাকে বেধড়ক মারধর  করে বস্ত্রহীন  অবস্থায় বাংলাদেশে সীমান্তে রেখে চলে যায়।  তিনি নিজে আহত অবস্থায় নাসিরের আম বাগানে আসলে  স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে ফোন করে খবর দিলে তার মা ও স্ত্রী গিয়ে  তাকে ভোর  ৪টার সময় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোরে মর্গে পাঠায়।
সর্বশেষ একই দিন বেলা ৩ টার দিকে একই গ্রামের কাদেরের মোড়ের পাশে চাঁদআলীর বাঁশবাগানের সামনে ইছামতী নদীতে আরো একটি বিবস্ত্র লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও বিজিবি
গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
সহকারী পুলিশ সুপার(নাভারণ সার্কেল) নিশাত আল নাহিয়ান জানান,কীভাবে তাদের মৃত্যু হলো আমরা তদন্ত করছি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে হয়তো মৃত্যুর কারণ জানাতে পারবো বলে তিনি জানান।