অন্ধ ‘শিকল পাগল’ গান শুনিয়ে সচল রেখেছেন সংসারের চাকা

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু,চৌগাছা (যশোর) ॥ কথিত ‘শিকল পাগল’ (৩৮) জন্ম থেকেই অন্ধ। গত ২০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে চৌগাছায় বসবাস করেন। কিন্তু তাঁর মিষ্টি মধুর কণ্ঠের কারণে পরিবারের বোঝা হতে হয়নি।

একতারা ও হ্যান্ডমাইক নিয়ে স্ত্রীর সহযোগিতায় বাজার ও বিভিন্ মহল্লায় ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে যা উপার্জন করেন তাতেই চলে তার সংসার। ভিক্ষা না করে তার মিষ্টি মধুর কণ্ঠের গান পরিবেশন করেই স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সুখেই আছেন শিকল পাগল।

রোববার দুপুরে স্ত্রী রেশমা খাতুনের হাত ধরে চৌগাছার প্রধান মাছ বাজারের ভেতর দিয়ে হেটে চলেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিকল পাগল। তাকে দেখে কিছু লোক কাছে ডেকে বসালেন এবং তার মধুর কন্ঠে গান শুনতে চাইলেন। শিকল পাগল বেশি দেরি না করেই তার একতারা ও হ্যান্ডমাইক ঠিকঠাক করে শুরু করে দিলেন মমতাময়ী মাকে নিয়ে একটি গান।

উপস্থিত জনতা তার গান শুনে মুগ্ধ। আরও একটি গান পরিবেশনের জন্য তাকে অনুরোধ করলেন এবং সে পরপর আরও দুটি গান শুনালেন উপস্থিত দর্শকদের। তার গানে মুগ্ধ হয়ে সেখানে উপস্থিত সকলেই ১০,২০,৫০ টাকা করে ৫শ টাকা দিলেন, তিনি বেজায় খুশি।

গান পরিবেশন শেষে কথা হয় শিকল পাগলের সাথে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো শিকল পাগল কেন নাম রাখা হলো। তিনি একটু মিষ্টি হেসে বলেন, তার দাদি বড় শখ করেই নামটি রেখেছিলেন।

শিকল পাগল বলেন, রংপুর সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পিতা শাহাজান আলী আর মা মর্জিনা বেগম। ৩ ভাই আর এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। রংপুরে অভাব অনটন দেখা দিলে তারা প্রায় ২০ বছর আগে চলে আসেন চৌগাছায়।

তিনি এক ছেলে এবং এক মেয়ে সন্তানের পিতা। ছেলে রিহাদ বাবু ভ্যান চালক আর মেয়ে আখি খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘরে বসে থেকে সময় যায় না, আবার স্ত্রী সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে উঠতেও চাই না।

তাই সকাল হলে স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের হাত ধরে বের হয়ে পড়ি। কখনও বাজার এলাকাতে আবার কখনো উপজেলার ছোটখটো বাজার ও মহল্লায় গান গেয়ে বেড়ায়। আমার গান শুনে উপস্থিতিরা যা দেয় তাতেই চলে সংসার। এক কথায় ভিক্ষা না, গানের রোজগারে আমি বেশ সুখেই আছি।