অনশনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ, হাসপাতালে ভর্তি

0
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনস্থলে লাদাখের পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো।। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশনরত লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ।
আজ শনিবার সকালে তাঁর অনশনের ২১তম দিনে দিল্লির যন্তর মন্তরের ধরনাস্থল থেকে জবরদস্তি তুলে নিয়ে তাঁকে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সিবিএসইর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে ছাত্রসমাজের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবিকে সমর্থন জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত এই পরিবেশ আন্দোলনকর্মী।

আজ ভোরে সাদা পোশাকে বহু পুলিশ সদস্য আচমকা যন্তর মন্তরের ধরনাস্থলে চাদর নিয়ে চড়াও হন। বিক্ষোভকারী ছাত্ররা পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ বাহিনী দ্রুত ধরনামঞ্চে গিয়ে বিছানাসুদ্ধ সোনম ওয়াংচুককে সাদা চাদরের ঘেরাটোপে আড়াল করে তুলে নিয়ে যায়।

মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এই চকিত অভিযান শেষ করা হয়। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন এবং আগামী সোমবার পূর্বঘোষিত ‘চলো সংসদ’ অভিযান সফল করতে দেশের ছাত্রসমাজকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ৫৯ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সফদরজঙ্গ হাসপাতালে পৌঁছে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, পরিবার এবং বিগত ২০ দিন যাবত তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া যেন কোনোভাবেই সোনমের চিকিৎসা বা জোর করে খাওনোর চেষ্টা না করা হয়।

দীর্ঘ অনশন ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় ও নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ধরনাস্থল পরিদর্শন করে সংহতি জানানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সরকারের অবহেলার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে আন্দোলন দমাতেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।