গণচাপ সত্ত্বেও রাজপথে নতি না স্বীকারের মোদি-কৌশল

0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ভারতে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন।
তরুণদের পরিচালিত নতুন সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এর হাজার হাজার সমর্থক দেশের রাজধানী নয়া দিল্লিতে মাসব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। রাজপথে পুলিশি লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের জবাবে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হওয়ার পরও পিছু হটেননি বিক্ষোভকারীরা।

তীব্র গণবিক্ষোভ ও বিরোধী দলগুলোর জোরালো চাপের মুখেও স্বস্থানে অটল রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

জেন-জি প্রজন্মের এই আন্দোলন নরেন্দ্র মোদির টানা তৃতীয় মেয়াদের শাসনের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাধারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের বড় বিতর্কে পদত্যাগের নজির থাকলেও, মোদির ১২ বছরের শাসনকালের রাজনৈতিক ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—চাপের মুখে সহকর্মীদের বরখাস্ত না করার এই অবস্থান তাঁর পুরোনো কৌশলেরই একটি অংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথ বা বিরোধীদের চাপের মুখে দলের কাউকেই সরান না মোদি।

২০১৫ সালে দাদরিতে গোমাংস রাখার গুজবে মোহাম্মদ আখলাক হত্যার ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্যের পরও তৎকালীন মন্ত্রী মহেশ শর্মাকে পদচ্যুত করা হয়নি।
২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার পর মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও তিনি বহাল ছিলেন।
এছাড়া ২০২১ সালে লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির পদত্যাগের দাবি উঠলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল ছিলেন।
মোদির পুরো রাজনৈতিক শাসনামলে পদত্যাগের একমাত্র বড় ব্যতিক্রম ছিল করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধনের বিদায়।
পূর্ববর্তী কংগ্রেস আমলে বিতর্কের মুখে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের পদত্যাগের নজির থাকলেও, মোদির শাসনব্যবস্থায় রাজপথের গণদাবির মুখে নতি স্বীকার না করাকেই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।