ভুল পরিচয়ে এক বছর কারাবাসের পর নিরপরাধ আলমাসের মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

0
নামের মিলে ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ এক বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মো. আলমাসকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ অনলাইন ডেক্স ॥ নামের মিলে ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মো. আলমাসকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ দেন।

এর আগে কারাগারে থাকা আলমাস নামের মিলের কারণে প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবর্তে গ্রেপ্তার হয়েছেন উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে কারাগারে থাকা আলমাস এবং দণ্ডিত ব্যক্তির পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তাঁর তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অনুসন্ধান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে গ্রেপ্তার আলমাস অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন এবং প্রকৃত আসামি আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

আজকের কার্যতালিকার শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে অংশ নেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ও আবদুল্লাহ আবু সাঈদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মো. আলমাছ ও মো. নাজমুল আলম মামুনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছিল পুলিশ। ২০০৪ সালের ১৯ জুন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ এর রায়ে মো. আলমাছকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপর আসামি নাজমুলকে খালাস দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় পলাতক থাকায় দণ্ডিত আলমাছের নামে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ মার্চের পরোয়ানর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ নভেম্বর পুলিশ শেখ খলিলের ছেলে আলমাসকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় এবং সেদিন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ভুল ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পেছনে মূলত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, গ্রেপ্তার আলমাস সপরিবার ২০০৭ সালের আগে ঢাকা জেলার দোহারের দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন এবং প্রকৃত আসামির গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীন হওয়ায় ডাকঘরের নামে পরিচয় দেওয়ার প্রচলনের কারণে দুজনের ঠিকানা এক হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, প্রকৃত আসামির বাবার নাম মো. খলিলুর রহমান (খলিল) এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির বাবার নামের শুরুতে শেখ খলিল থাকায় নামের এই সাদৃশ্য বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে।

তৃতীয়ত, ২০০২ সালের অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলমাছের ঠিকানা ভুলক্রমে ‘পূর্ব ধোয়াইর’-এর স্থলে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়, যা পরবর্তী মামলার নথি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতেও বহাল থেকে যায়।