হরমুজে মার্কিন হামলায় তেল ট্যাংকার অচল, কুয়েত-জর্ডানে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে

0
হরমুজে মার্কিন হামলায় তেল ট্যাংকার অচল
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলের খোর ফাক্কান এলাকার কাছে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। [এফএস/এএফপি]

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, লোকসমাজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেটির চলাচল অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও চাবাহার এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।

জর্ডানের সরকারি বার্তা সংস্থা পেট্রা জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে সশস্ত্র বাহিনী। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট ও একটি মার্কিন ঘাঁটির আশপাশে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত পাঁচটি ড্রোন শহরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি ড্রোন মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ভূপাতিত হলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং কনস্যুলেটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে কুর্দি আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও। সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রকাশনা লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে অ-ইরানি জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক জাহাজ ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে গোপনে চলাচল করছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। কূটনৈতিক মহলেও উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের দাবি জোরালো হচ্ছে।