কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল হত্যা মামলায় অটোরিকশাচালক সুমন চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

0
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন।। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা ঘটনায় সুমন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সুমন মূলত নিহত ওই স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক আভিযানিক টিম চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। সুমনকে নিয়ে পুলিশের একটি টিম ইতোমধ্যে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

"আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য
 উদ্‌ঘাটন করা হোক।
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের
বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত
 ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।" 
— 
আব্দুল আলিম, নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা

কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তবে সংবাদ সম্মেলন ঠিক কখন অনুষ্ঠিত হতে পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সূচি তিনি উল্লেখ করেননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিমের মেয়ে।

সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে কর্মরত আছেন। কর্মসূত্রে তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

ঘটনার আগে তাজমিন বাবার ফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্বজনেরা সেই লোকেশনে গিয়েই তার মরদেহ পান। ভয়াবহ এই ঘটনার পর নিহত জান্নাতুলের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন:
লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার কিশোরীর দাফন যশোরে

অন্যদিকে, কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের দাফন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

জান্নাতুলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের অঝোর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় বেড়ে উঠলেও তার মূল শিকড় ছিল যশোরের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। সেখানেই স্বজনেরা তাকে শেষবিদায় জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। একই সময় ঘটনাস্থলের খুব কাছেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার কিশোরীর দাফন যশোরে
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের দাফন শুক্রবার যশোর সদরের ছাতিয়ানতলায় সম্পন্ন হয়েছে – লোকসমাজ

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার দিন আগে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় জান্নাতুল এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তার।

মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বুধবার রাতেই একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করেন বাবা আব্দুল আলিম। কিন্তু মেয়ের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং রাতেই মেয়ের সন্ধানে বের হন। পরে ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিজের মেয়ে জান্নাতুল তাজমিনের বলে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে রাতেই মরদেহ নিয়ে যশোরের ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান স্বজনেরা। এরপর শুক্রবার সকালে স্থানীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত জান্নাতুলের বাবা আব্দুল আলিম মেয়ের নির্মম মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের আকুল দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় এবং এতে দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।