ঝিনাইদহের মিশনের নিয়োগ চূড়ান্তের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

0
স্থায়ী ভিটা না থাকায় শিক্ষক পদে নিয়োগ জটিলতায় পড়া ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের নিয়োগ চূড়ান্তের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের হস্তক্ষেপে কাটে এই অনিশ্চয়তা।। ছবি: সংগৃহীত

ইমতিয়াজ আহমেদ, ঝিনাইদহ: সহকারী শিক্ষক পদে মিশনের নিয়োগ জটিলতা কাটাতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেছেন। স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের নিয়োগের এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তা অবশেষে কাটতে যাচ্ছে।

তাঁর নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোঃ রাশেদ খাঁনের উদ্যোগের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার সকালে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দেন রাশেদ খাঁন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য (রোল নম্বর-৬৫১৫৩২৮) নিয়োগপত্র হাতে পাননি।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, মিশন আচার্য জন্মলগ্ন থেকে সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি ওই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে সেখানেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

"ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন আচার্যকে
তাঁর মা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন।
মানবিক বিবেচনায় বিধি মোতাবেক তাঁর নিয়োগপত্র
প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।"
 — 
মোঃ রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

ডিও লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন আচার্যকে তাঁর মা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। এরপর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

আরও পড়ুন:

মায়ের ঘাম আর সন্তানের মেধায় দারিদ্র্য জয়, ভিটের ঠিকানায় আটকে গেল সরকারি চাকরি

রাশেদ খাঁন তাঁর ডিও লেটারে মিশন আচার্যকে ভদ্র ছেলে উল্লেখ করে মানবিক বিবেচনায় বিধি মোতাবেক তাঁর নিয়োগপত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে রোববার দুপুর ২টার দিকে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন। সাক্ষাৎকালে মিশনের নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তিনি। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

এর আগে স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও মিশন আচার্যের নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলেও আলোচনার সৃষ্টি করে।

মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে মিশনের যোগদানের পথ তৈরি হয়েছে।