মাগুরায় স্বজনদের অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও দম্পতি, বিপাকে ২০ পরিবার

প্রতিবেশীদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কৌশলে টাকা ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করার পর প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন এই দম্পতি।

0
মাগুরায় স্বজনদের অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে উধাও দম্পতি
মাগুরায় স্বজনদের অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে উধাও অভিযুক্ত স্বরজিৎ রায় ও শিমু রায় দম্পতি- লোকসমাজ

মাগুরা সংবাদদাতা, লোকসমাজ : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের রাজবংশীপাড়ার অন্তত ২০টি পরিবারের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের স্বরজিৎ রায় ও তার স্ত্রী শিমু রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশীদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কৌশলে টাকা ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করার পর প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন এই দম্পতি।
ভুক্তভোগীরা জানান, স্বর্ণালংকার ও অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় তারা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
প্রতারণার শিকার পরিবারগুলোর মধ্যে ঘাসিয়াড়া ব্যাপারীপাড়া গ্রামের আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, শেফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা, দীপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ঝর্ণা বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রানীর কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বরজিৎ ও শিমু রায় বিভিন্ন এনজিও ও সমবায় প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রামের অনেককে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিতে উৎসাহিত করে সেই অর্থ নিজেদের কাছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ পড়েছে ঋণগ্রহীতাদের ওপর।
ঋণের বোঝা ও আর্থিক সংকটে পড়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত তিনজন আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

মাগুরায় স্বজনদের অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে উধাও দম্পতি
মাগুরার শ্রীপুরে স্বরজিৎ রায় ও শিমু রায় দম্পতির প্রতারণার শিকার কয়েক জন- লোকসমাজ

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম বলেন, “স্বরজিৎ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল। টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখাত। এখন সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। শুধু আমি নই, গ্রামের অনেকেই তার কাছে প্রতারিত হয়েছেন।”
দীপালী বিশ্বাস বলেন, “আমাকে দিয়ে এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ করিয়ে নেয় স্বরজিৎ ও তার স্ত্রী। তারা কিস্তি পরিশোধের কথা বললেও তা করেনি। এখন ঋণের পুরো চাপ আমার ওপর পড়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
স্বর্ণালী সেন বলেন, “পুরো গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেছে স্বরজিৎ ও শিমু। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতির ফিল্ড অফিসার এবং উপজেলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন জানান, স্বরজিৎ ও তার স্ত্রী সমিতি থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কয়েকটি কিস্তি পরিশোধের পর উধাও হয়ে যান।
গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর ফিল্ড অফিসার নাঈম শেখ বলেন, “স্বরজিৎ দম্পতি আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। মাত্র দুটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন। এছাড়া গ্রামের আরও কয়েকজনকে দিয়ে ঋণ করিয়ে সেই অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার ও আমাদের প্রতিষ্ঠান উভয়ই সমস্যায় পড়েছে।”
এ বিষয়ে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মালেক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তবে অভিযুক্তরা এলাকায় না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”