মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পেপারবুক হাইকোর্টে, শুনানির অপেক্ষায় মামলা

0
যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ।। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার হাইকোর্টে শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ছাপা পেপারবুক আজ সোমবার ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াগুলো শেষে বেঞ্চ নির্ধারণ ও শুনানি শুরুর পালা।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায়ে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি তিন আসামিকে খালাস দেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য রায়সহ যাবতীয় নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়। পরে হিটু শেখ গত বছরের ২৫ জুন আপিল করলে ১ জুলাই হাইকোর্ট তা গ্রহণ করে এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে।

১ হাজার ২০০ মামলার লম্বা লাইন

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতে এখন প্রায় ১ হাজার ২০০ ডেথ রেফারেন্স মামলা বিচারাধীন। সাধারণত বছর ও মামলার ক্রম অনুযায়ী শুনানি হয় এবং ২০১৮ সালের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এখন শেষ পর্যায়ে। তবে গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির নজিরও রয়েছে।

পল্লবীর রায়ের পর বিশেষ বেঞ্চ গঠনের ঘোষণা

গতকাল পল্লবীর শিশু হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন মামলাগুলো শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করবেন, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নিম্ন আদালতের রায় কার্যকর হতে দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়ে মানুষের উদ্বেগ অত্যন্ত যৌক্তিক।’ এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগী ভূমিকা রাখা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মাগুরার ঘটনার পটভূমি

গত বছরের ৬ মার্চ বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে মাত্র ৭৩ দিনের মাথায় বিচারিক আদালত রায় দিয়েছিলেন। এখন সেই রায় হাইকোর্টে অনুমোদনের অপেক্ষায়।