কালীগঞ্জে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাওয়ের পর মজুদ সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। রোববার সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামে ডিলার শহিদুল ইসলামের বিক্রয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা কৃষি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গুদামে পাওয়া সার তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সকালে সার বিক্রির কথা থাকলেও ডিলার পয়েন্টে আসার পর জানানো হয় শুক্র ও শনিবারই সার বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তালাবদ্ধ গুদাম খুলে ভেতরে আরও ৬০ বস্তা সার দেখতে পান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন চাহিদার বিপরীতে ৫৮ টন (প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা) সার উত্তোলন করেছিলেন ডিলার শহিদুল ইসলাম। কিন্তু বিতরণ রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, গ্রাহকদের নামের পাশে মাত্র ৫ শতাংশ ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ৯ জন কৃষকের নম্বরে যোগাযোগ করলে কেবল একজন সার পাওয়ার কথা জানান। বাকি ৮টি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, উত্তোলিত সারের পুরোটাই নিয়ম মেনে বিতরণ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, গোডাউনে থাকা সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত সার আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সার বিতরণের রেজিস্ট্রারে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে কর্মকর্তা পাঠিয়ে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বাফার গোডাউন ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, চলতি মাসে ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কোনো ঘাটতি নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, সংবাদ পেয়ে সেখানে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আরো সার সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। কিছু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।