যবিপ্রবি ট্রেজারারের গাড়িতে রহস্যজনক ডিভাইস, আড়ি পাতার অভিযোগ

0

বিশেষ প্রতিবেদক, লোকসমাজ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের ব্যবহৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে একটি বিশেষ ডিভাইস পাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রেজারার নিজেই গাড়ির ড্যাশবোর্ডের নিচ থেকে ডিভাইসটি উদ্ধার করেছেন। তাঁর সন্দেহ, এটি তাঁর কথাবার্তা গোপনে শোনার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের দাবি, গাড়িটি ট্র্যাক করার জন্য স্থাপিত ডিভাইসকেই সাউন্ড পাসিং বা আড়ি পাতার যন্ত্র বলে ভুল করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি যবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ দেয়। ওই গাড়িতে চলাচলের একপর্যায়ে তিনি গোপনে খবর পান, তাঁর কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনার জন্য ড্যাশবোর্ডের নিচে বিশেষ একটি ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে তিনি গাড়িচালক কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চান। সূত্রের দাবি, প্রথমে কামরুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ট্রেজারারের চাপের মুখে ডিভাইসটি খুঁজে বের করে তাঁর কাছে জমা দেন।

সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে যবিপ্রবির পরিবহন পুলে নানা ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা গাড়ির জ্বালানি তেল চুরির বিষয়টি শনাক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে জড়িতরা গাড়ির দরজার ভেতর দিয়ে ছোট পাইপ ব্যবহার করে বিশেষ কৌশলে তেল সরিয়ে নিতেন। গাড়ি চলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা পাত্রে তেল জমা হতো। পরে সেই পদ্ধতিও ধরা পড়ে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এসব ঘটনার পর পরিবহন পুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছেন বলেও সূত্রের দাবি।

এ বিষয়ে গাড়িচালক কামরুল ইসলামের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফোনে আমি অফিশিয়ালি কিছুই বলতে পারব না। আমার কাছে জানতে হলে ট্রেজারার স্যারের উপস্থিতিতে প্রশ্ন করতে হবে।’

যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দিনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ট্রেজারারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হোসেন গাড়িতে ডিভাইস পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এমন একটি ডিভাইস রাখা হলেও আমাকে জানানো হয়নি। এটি সাউন্ড রেকর্ডিং ডিভাইস, নাকি ট্র্যাকিং ডিভাইস, তা আমি জানি না। তবে চালক ও পরিবহন পুল থেকে জানানো হয়েছে, এটি ট্র্যাকিং ডিভাইস। ভাইস চ্যান্সেলর যশোরে ফিরলে তাঁকে বিষয়টি জানাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাব।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তাঁকে না জানিয়ে তাঁর ব্যবহৃত গাড়িতে এ ধরনের ডিভাইস স্থাপন করা কিছুটা বেমানান।

এদিকে যবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর দাবি করেছেন, ডিভাইসটি সাউন্ড পাসিং বা রেকর্ডিংয়ের জন্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গাড়িতেই গাড়ির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এ ধরনের ট্র্যাকিং ডিভাইস স্থাপন করা রয়েছে।

ট্রেজারারকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি, গাড়ির অবস্থান ও চলাচলের তথ্য অন্যত্র যাওয়ার মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে কি না এবং বিষয়টি তাঁকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, ট্রেজারারও বিষয়টি জানতে চাননি, তাঁকেও জানানো হয়নি। তবে ঢাকা থেকে ফিরে ট্রেজারার যদি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান অথবা প্রশাসনের কাছে মনে হয়, এ ঘটনায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবহন পুলের অতীত অনিয়ম ও জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভিসি জানান, এসব বিষয়ে তিনি শুনেছেন। বর্তমানে অনেক কিছু নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। অতীতের ঘটনা এখন সামনে এনে বিচার করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।