যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক, ঝিনাইদহে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

রীনা খাতুনের দাবি, গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মাথায় তাকে তালাক দেওয়া হয়।

0

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা, লোকসমাজ : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধে’ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রীনা খাতুনের দাবি, গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মাথায় তাকে তালাক দেওয়া হয়।

ঘটনাটি উপজেলার পুরাতন কোলা গ্রামের। শুক্রবার মহেশপুর থানায় অভিযোগ জানিয়ে বিচার ও আইনি সহায়তা চান রীনা খাতুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে পুরাতন কোলা গ্রামের রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে রীনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। পরে রীনা গর্ভবতী হলে পরিবারের সদস্যদের আনন্দ আরও বেড়ে যায়।

তবে একটি রুটিন আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে চিকিৎসকরা জানান, রীনার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ির আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করেন রীনা।

রীনা খাতুন বলেন, “যখন জানতে পারল আমার গর্ভে দুইটি মেয়ে সন্তান, তখন থেকেই আমার ওপর মানসিক অত্যাচার শুরু হয়। তারা আমাকে বলেছিল, ‘দুইটাই মেয়ে সন্তান হলে এই সন্তান আমরা নেব না। যদি একটি ছেলে হতো, তাহলে মেনে নেওয়া যেত।’ নিজের সন্তানের প্রতি এমন মনোভাব আমি মেনে নিতে পারিনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কন্যাসন্তান জন্ম নেবে—এ অজুহাতে তার কাছে নতুন করে যৌতুকও দাবি করা হয়। গর্ভাবস্থায় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি তাকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রীনা খাতুন যমজ কন্যাসন্তান মেহেরীন ও নওরীনের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে গত ২৫ এপ্রিল আইনগত প্রক্রিয়ায় তালাকনামা পাঠানো হয়।

রীনা বলেন, “সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে, তা কোনো মানুষের হাতে নেই। শুধু কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে আমাকে এবং আমার অবুঝ দুই সন্তানকে এভাবে পরিত্যাগ করা হয়েছে। এখন আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”

যমজ শিশুদের নানি হালিমা খাতুন বলেন, দুই শিশুকে নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি মানবিক ও আইনি উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আধুনিক সমাজে কন্যাসন্তানের কারণে কোনো নারীকে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়া যায় না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওসি আরও জানান, ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।