বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার পর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নাম, আতঙ্কে ঝিনাইদহের গ্রামীণ নারীরা

৩০০ নারীর তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ

0
বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার পর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নাম

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা, লোকসমাজ: স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামের নারীদের আইরিশ, আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে সেই তথ্যের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরার পৃথক মামলায় ঝিনাইদহের নারীদের নাম আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা কোনো অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও বিকাশ ও নগদের টাকা আত্মসাতের মামলায় তাদের জড়ানো হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোর একটি সাইবার মামলায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার জাহানারা বেগম (৬১)-এর পরিচয়, বয়স, পেশা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পুলিশ রেকর্ড ও স্বভাব-চরিত্র যাচাই করতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অনুসন্ধান স্লিপ পাঠিয়েছে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো। গত ১৩ সেপ্টেম্বরের ওই স্লিপে চট্টগ্রামের সাইবার পিটিশন মামলা নং-৩৯৪/২০২৬, তারিখ ৯ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরার তালা থানার একটি মামলায়ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী এলাকার নাছিমা খাতুনের নাম পাওয়া গেছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর পিবিআই সাতক্ষীরা জেলা থেকে পাঠানো অনুসন্ধান স্লিপে তার সঠিক নাম, ঠিকানা, বয়স, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়। নথিতে মামলাটি তালা থানার সিআর মামলা নং-২৩/২০২৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হলিধানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা বলে একটি চক্র নারীদের কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে। অনেক নারী এটিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মনে করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও বায়োমেট্রিক দিয়েছেন। কিন্তু পরে সেই তথ্যের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার মামলার যোগসূত্র দেখতে পাওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

রামচন্দ্রপুর এলাকার আব্দুল হক, জামিলা খাতুন, সোনিয়া খাতুন ও রহিমা খাতুনসহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একইভাবে তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হলিধানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩০০ নারীর কাছ থেকে আইরিশ, আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। অথচ দেশের অন্য জেলার মামলায় তাদের নাম আসায় তারা আইনি হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, স্বাস্থ্যসেবার নামে নেওয়া বায়োমেট্রিক তথ্য কীভাবে অর্থ আত্মসাতের মামলার সঙ্গে যুক্ত হলো।

ঘটনার নথিভিত্তিক দিকটিই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ, ঝিনাইদহের নারীদের বিষয়ে পরিচয় ও পুলিশ রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরার পিবিআই থেকে পৃথক অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানো হয়েছে। এতে স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তবে প্রায় ৩০০ নারীর তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা হওয়ার বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে নারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী এবং তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য মামলার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন আছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে। তবে বাড়িতে গিয়ে অপরিচিত কেউ তথ্য চাইলে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তিনি