অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম সিকদারকে জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে মঙ্গলবার সকালে - লোকসমাজ

সুলতান মাহমুদ, নড়াইল, লোকসমাজ : নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম সিকদার ওরফে রবি সিকদার (৩২) আটক হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তের কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকলেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে তাকে শনাক্ত ও আটক করেছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে স্বল্পতম সময়ে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব আইনগত পদক্ষেপ নেবে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জান্নাতিকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা।

একই দিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নড়াইল-লোহাগড়া-ঢাকা মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টিএম রাহসিন কবিরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার বিকেলে রামচন্দ্রপুর গ্রামে জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে ও রাজমিস্ত্রি রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান। নিহত জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

নিহতের চাচা মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার বিকেলে জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি এনে দেন। মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল জান্নাতুল। এ সময় প্রতিবেশী রবিউল তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রবিউলের ঘরের মেঝে থেকে কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় রবিউল একাই ঘরে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী ও সন্তান আলাদা থাকতেন।

নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আসিফ আকবর জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।