কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন মনিরামপুরে

0
ছবি: লোকসমাজ।

মজনুর রহমান,মনিরামপুর (যশোর) ॥ কক্সবাজারের উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মনিরামপুরের একই পরিবারের নিহত চারজনের মরদেহ ১১ দিন পর বুধবার সকালে পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের বাড়ি এসে পৌছায়।

ডিএনএ পরীক্ষার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের কাছে চারটি মরদেহ হস্তান্তর করে। সেখান থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো বুধবার সকাল সাতটার দিকে গ্রামের বাড়ি মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর এলাকার বাড়িতে পৌছুলে স্বজনহারাদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারও মানুষ ভিড় করেন নিহতদের বাড়িতে। চারটি মরদেহ দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে সবার চোখে পানি আসে।

বিকেল তিনটার দিকে বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহে চারজনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাজারও মুসল্লির অংশগ্রহণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা ফরিদা খানমের পাশে ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন ও তার স্ত্রী এবং দুই শিশুকন্যাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রশিদ আহমেদ।

এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন, জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করে সান্ত্বনা দিয়ে গভীর সমবেদনা জানান।

নিহত নাহিদুর রহমানের পিতা অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক(এপপিআই)মতিয়ার রহমান জানান, নাহিদুর রহমান তুহিন(৪০) ঢাকায় গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। তুহিন স্ত্রী আফসানা তানজি(৩৫), মেয়ে রুজায়না ইয়ানা(৭) ও সুনায়না ইয়ানা(৭)কে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর নুরজাহান রোডের ভাড়া বাসা থেকে ১৫ অক্টোবর রাতে একটি স্লিপার এসি কোচে কক্সবাজারে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

১৬ অক্টোবর সকালে তুহিন পরিবার নিয়ে উখিয়া উপজেলার সমুদ্রসৈতকের পাশে ইনানীতে কাঠ বাঁশ ইটের তৈরী টুপটুপ রিসোর্টের দুইতলার ২০২ নং কক্ষে ওঠেন। ১৭ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তুহিন পরিবারসহ মোট ১১ জন নিহত হয়।

জানা যায়, অগ্নিকান্ডের সময় আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো রিসোর্টটি দাউ দাউ করে ভস্মীভূত হবার সময় তুহিন ও তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তারা অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মারা যান।