মাদক ব্যবসা থেকে চাঁদাবাজি : যশোরে কয়েক কথিত সোর্সকে ঘিরে বিতর্ক

যশোরে কয়েকজন কথিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

0
মাদক ব্যবসা থেকে চাঁদাবাজি: যশোরে কয়েক কথিত সোর্সকে ঘিরে বিতর্ক
প্রতীকী ছবি- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্স পরিচয়ে চলাফেরা করা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অপরাধীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অপরাধ দমনে তথ্যদাতা হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তি উল্টো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে জেলা পুলিশ বলছে, তথ্যদাতা হিসেবে কেউ কাজ করলেও অপরাধে জড়িত থাকার সুযোগ নেই; অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা রাহাত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে পরিচিত। কয়েক বছর আগে শহরের শংকরপুরে একটি প্লাস্টিক কারখানার মালিককে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে রাহাত হোসেনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
গত ১৫ জুন ডিবি পুলিশ রাহাত হোসেনকে বস্তায় ভরা ৯টি ধারালো অস্ত্রসহ আটক করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।
শুধু রাহাত হোসেনই নন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় কথিত সোর্স পরিচয়ধারী আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একইভাবে ষষ্ঠীতলা বুনোপাড়া এলাকার রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া আব্দুল কাদের নামে আরেক কথিত সোর্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। সে নিজেকে র‌্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে।
সম্প্রতি চাঁচড়া বাবলাতলা এলাকা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হওয়া অনিক ওরফে অনির সঙ্গে একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি ও অপহরণের মতো কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কয়েকদিন আগে যশোরের নড়াইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্সদের ছত্রচ্ছায়ায় মাদক ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, যেসব এলাকায় এসব ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে, সেসব এলাকাতেই মাদকের বিস্তার বেশি দেখা যায়।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে তথ্যদাতাদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কিছু ব্যক্তি সেই সুযোগের অপব্যবহার করছেন। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, “যারা বিভিন্ন গোপন তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করেন, তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। তবে কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।