যশোরে শুরু হলো ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব বৃহস্পতিবার যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
গতকাল সকালে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, মঙ্গলাচরণ, সংকীর্তন ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পূজা শেষে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে আরোহন করানো হয়। পরে ভক্তরা রথের রশি টেনে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
চাঁচড়া দশমহাবিদ্যা ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী জানান, সকাল থেকেই পূজা ও সংকীর্তন শুরু হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে জগন্নাথদেবের রথের শোভাযাত্রা বের হয়। শত শত ভক্তের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারাপ্রসন্ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সাত দিন রথ ও বিগ্রহ অবস্থান করবে। পরে ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে রথটি পুনরায় ইসকন মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে।
একই দিন বিকেলে ঝুমঝুমপুর রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকেও জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে আরোহন করিয়ে শোভাযাত্রাসহ বেজপাড়া গয়ারাম রোডের একটি বাড়ির মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, সেখানেও সাত দিন রথ অবস্থান করবে। এ শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি শ্যামল দাস।
এদিকে, নীলগঞ্জ মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা জগন্নাথদেবের সজ্জিত রথ টেনে পুণ্য অর্জনের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেন।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ এবং সহ-সম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ জানান, তিথি অনুযায়ী শাস্ত্রসম্মতভাবে পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বিকেলে রথের রশি টানা এবং সন্ধ্যায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
বেজপাড়া পূজা মন্দির ও প্রগতি পল্লীতেও উৎসব উপলক্ষে বিশেষ পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে অস্থায়ী দোকানে মাটির পুতুল, শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতে দেখা যায়।
ধর্মীয় দর্শন অনুযায়ী, রথযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়; এটি মানবজীবনের আত্মিক যাত্রারও প্রতীক। প্রাচীন শাস্ত্রে মানবদেহকে রথের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে রথ মানবদেহের এবং রথী পরমেশ্বরের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।