বাগেরহাটে সীম ক্লোন করে বিকাশ-নগদের টাকা আত্মসাৎ, ৯ জন গ্রেফতার

0
বাগেরহাটে সীম ক্লোন করে বিকাশ-নগদের টাকা আত্মসাৎ, ৯ জন গ্রেফতার

বাগেরহাট সংবাদদাতা, লোকসমাজ : বাগেরহাটে বিকাশ ও নগদ গ্রাহকদের সীমকার্ড ক্লোন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল হ্যান্ডসেট, ২০টি সীমকার্ড এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন মোংলা উপজেলার চিলা বাজার এলাকার দুই ব্যবসায়ীর বিকাশ ও নগদ হিসাব-সংযুক্ত সীমকার্ড ক্লোন করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রতারক চক্রটির সন্ধান পায়।

তদন্তের শুরুতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, ২০টি সীমকার্ড এবং ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— শরনখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা গ্রামের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া গ্রামের রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশরাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িক সীম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি জানান, চক্রটি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ক্লোন করে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিভিন্ন কৌশলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) কল সেন্টারে যোগাযোগ করে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া অতিক্রম করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার লাভ করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতারকরা আগেভাগেই কিছু ছোট অঙ্কের লেনদেন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করত। ফলে কল সেন্টারের যাচাই-বাছাইয়ে তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে সক্ষম হতো এবং অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়ে অর্থ আত্মসাৎ করত।

এ ঘটনায় মোংলা থানায় ডিজিটাল সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।