যশোর জেনারেল হাসপাতালে নতুন আইসিইউ চালু ডিসেম্বরে, লিফট সমস্যার সমাধান হচ্ছে

0
ছবি: সংগৃহীত।

বি এম আসাদ ॥ একটিমাত্র লিফটের অভাবে দীর্ঘ তিন বছরেও চালু হয়নি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বিশেষ সহযোগিতায় অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।

লিফটের জন্য ইতিমধ্যে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নবনির্মিত এই সরকারি আইসিইউটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে একের পর এক দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হলো।

গণপূর্ত বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, করোনা মহামারির সময় স্থানীয় উদ্যোগে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছিল, যার সাথে একটি এইচডিইউ-ও রয়েছে। তবে ওই আইসিইউটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় সরকারিভাবে একটি নতুন আইসিইউ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সেই প্রেক্ষিতে সরকারি অর্থায়নে যশোরে নতুন আইসিইউ নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের শেষের দিকে হাসপাতালটির বিদ্যমান তিন তলাবিশিষ্ট সিসিইউ ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে চতুর্থ তলায় নতুন সরকারি আইসিইউ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৩ জুন এই নির্মাণকাজ সফলভাবে সমাপ্ত করে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর অ্যাসোসিয়েট।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে ১৮ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর, ওই বছরের ২৫ জুন গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর রোগীদের নিবিড় চিকিৎসার জন্য সেখানে ১০টি অত্যাধুনিক আইসিইউ বেড ও ২০টি আইসোলেশন বেডসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের অপেক্ষায় থাকায় তৎকালীন স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা এই সরকারি আইসিইউটি চালু করার ব্যাপারে বিরোধিতা করেন।

তাদের অভিমত ছিল, নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি নির্মিত হলে আইসিইউ ইউনিটটি সেখানেই স্থানান্তর করা হোক। এই মতবিরোধের জেরে নতুন আইসিইউ চালুর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ থমকে যায়। ফলে কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয় এবং একপর্যায়ে পুরো ইউনিটটি পরিত্যক্ত রূপ নেয়।

পরবর্তীতে নবনির্মিত এই আইসিইউ কক্ষটিকে সাময়িকভাবে হাসপাতালের প্রশিক্ষণ কর্মশালার রুম হিসেবে ব্যবহার করা হতে থাকে। এতে সাধারণ রোগীরা যেমন তাদের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, তেমনই স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতিও সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ ও আস্থার সংকট তৈরি হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও তারা মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি চালু করতে ব্যর্থ হয়। এর মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত আইসিইউর একটি লিফট নির্মাণ। মাত্র ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে কেউই এটি চালু করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছিলেন না।

এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিসিইউর পাশাপাশি এই নবনির্মিত সরকারি আইসিইউটি দ্রুত চালুর ব্যাপারে বিশেষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আইসিইউর লিফটের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

গত ২৪ মে গণপূর্ত বিভাগে এ সংক্রান্ত বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অর্থও এসে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন জানান, নতুন এই সরকারি আইসিইউটি পুরোদমে চালু হলে যশোরসহ সামগ্রিক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে সঠিক চিকিৎসাসেবা পাবেন। এমনকি সরকারি কর্মকর্তারা এ অঞ্চলে সফরে আসলে তারাও এই আধুনিক চিকিৎসাসেবা উপভোগ করতে পারবেন।

লিফটের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, এই লিফটের মূল যন্ত্রাংশগুলো দেশে সহজলভ্য না হওয়ায় তা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এই আমদান প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগছে, যা বিবেচনা করে আগামী ডিসেম্বর মাসকেই আইসিইউটি উদ্বোধনের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।