যশোর জেনারেল হাসপাতাল : নিজস্ব বাহনে শিশুর মরদেহ নিতে বাধা, বহিরাগত দুই অ্যাম্বুলেন্সচালক আটক

গত ১২ মে অনুষ্ঠিত জেলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই সভার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

0
যশোর জেনারেল হাসপাতাল : শিশুর মরদেহ নিজস্ব বাহনে নিতে বাধা

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : যশোর জেনারেল হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত সাত বছর বয়সী শিশু আয়াত খাতুনের মরদেহ নিজস্ব বাহনে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক সিন্ডিকেটের দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নেওয়ার পরপরই আয়াত খাতুন মারা যায়। হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. আনসার আলী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আয়াত ঢাকার বাসাবো এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় রডমিস্ত্রি আলাউদ্দিনের কন্যা। তার নানা বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনরা মরদেহ দাফনের জন্য মির্জাপুরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ জন্য তারা নিজস্ব বাহন ব্যবহার করতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্ট্রেচারে মরদেহ রাখা হলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক আপত্তি জানান। এ সময় ডিএসবি পুলিশের সদস্য সুজন হোসেন বিষয়টি জানতে চাইলে কয়েকজন চালক তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন চালক সেখানে জড়ো হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এসময় হাসপাতাল এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কোতোয়ালি থানাকে অবহিত করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শহরের ঘোপ এলাকার আবু সাঈদ মিঠু ও কামাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো রোগী মারা গেলে কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে স্বজনদের অনেক সময় নিজেদের পছন্দের বাহন ব্যবহার করতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের সিন্ডিকেটের কারণে। জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থানরত এ চালকদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রায় এক দশক ধরে চলমান এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জেলা প্রশাসন, হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে অনুষ্ঠিত জেলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই সভার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
সর্বশেষ আয়াত খাতুনের মরদেহ নিজস্ব বাহনে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, এ ঘটনার পর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।