রায়পুরে মা ও দুই মেয়েসহ ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু

0
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক প্রবাসীর ভাড়া বাসায় ঢুকে মা, ঢাবি পড়ুয়া বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়েকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক যুবক। ঘটনার পর পালাবার সময় গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত ঘাতকেরও।। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে নিহতের মেঝো বোন ও কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭), যার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে অন্তর মজুমদার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর বেগম তাঁর সন্তানদের নিয়ে রায়পুরের এই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁর স্বামী কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে এখানে থাকতেন। আজ সকালে ওই যুবক আচমকা বাসায় ঢুকে তাঁদের চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছোট মেয়ে শিফা মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর বড় মেয়ে ঢাবি ছাত্রী সায়মাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। মেঝো মেয়ে ইকরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ জানান, নিহতদের সবার শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী এবং সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে স্থানীয়দের ইটপাটকেলে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আবু তারেক। ৪ জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে ঘটনা উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত চলছে।