যশোরে ডাকাত সন্দেহে ৫ যুবককে ধরে গণধোলাই, পুলিশের কাছে সোপর্দ

0
যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙায় ডাকাত সন্দেহে ৫ যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। প্রাইভেটকার ও বাইক উদ্ধারের পর আটক ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডাকাত সন্দেহে গণধোলাই দিয়ে যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে পাঁচ যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

আটক হওয়া যুবকরা হলেন—যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। পুলিশ উদ্ধার করে তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা গ্রামে ঢোকেন। তারা এলাকার বিভিন্ন গলিতে তল্লাশির মতো ঘোরাঘুরি করতে থাকলে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে।

বালেয়াডাঙা ও মান্দারতলা এলাকায় রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ভিড়।। ছবি: সংগৃহীত

একপর্যায়ে বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেন। মান্দারতলা এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকারটি ফেলে যুবকরা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পার্শ্ববর্তী মালোপাড়া এলাকা থেকে চারজনকে ধরে ফেলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, তাদের দলে একজন নারীও ছিলেন, তবে তাঁকে আটক করা যায়নি।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক ব্যক্তিরা ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। তাঁদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা আদায় করতে তারা ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। আরেকজন দাবি করেন, তাঁদের একজনের স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে এসেছিলেন কিন্তু গ্রামবাসী তাঁদের ডাকাত ভেবে ভুল করেছে। অন্য একজন জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁদের এই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে পুরো ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন জানান, প্রারম্ভিক তদন্তে তাঁদের ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেখানে সরাসরি কোনো ডাকাতির ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনগণ তাঁদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।