যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানে নিহত ১৪, বাহরাইন-কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে

0
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানে নিহত ১৪,
বন্দর আব্বাসে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, লোকসমাজ : যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় রাতের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানের পাঁচটি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক এবং আবু মুসা দ্বীপ। ইরানের ইরানশাহর শহরে অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
কাতারের রাজধানী দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আকসেল জাইমোভিচ জানান, স্থানীয় সময় ভোর চারটার কিছু আগে বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে ঘরের ভেতরে অবস্থান করা, জানালা ও কাচঘেরা ভবন থেকে দূরে থাকা এবং খোলা জায়গা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু সময় পর আরেকটি বার্তায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়।
প্রতিবেশী বাহরাইনেও রাতের মধ্যে দুই দফা বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও কোনো হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি রেসুল সারদার আতাস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন চায় না যে ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক। অন্যদিকে তেহরান মনে করে, হরমুজ প্রণালি তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতা এবং আলোচনার টেবিলে এটি গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির হাতিয়ার।পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরানের রেল যোগাযোগ। মার্কিন হামলায় তেহরান-মাশহাদ রেলপথের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আটকে পড়া যাত্রীদের সড়কপথে মাশহাদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন আজ মাশহাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও যাতায়াত নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে কুয়েতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, কাতারে একটি আগাম সতর্কীকরণ স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা কেন্দ্র এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই হামলায় তারা “বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের ড্রোন” ব্যবহার করেছে।
তারা আরও বলেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বোধ প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে দেবে না এবং চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবের মহৎ আদর্শকে রক্ষা করবে”।