বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশে ১১ মৃত্যু; আতশবাজি ও উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট

0
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে দেশে ১১ জনের প্রাণহানি; সহিংসতা ও শব্দদূষণ রোধে হাইকোর্টে রিট।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা, চরম জনদুর্ভোগ ও গভীর রাতের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে সর্বসাধারণের জন্য বড় পর্দায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর সব ধরনের অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটকারী আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ১১ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গভীর রাতে উচ্চ শব্দে অনিয়ন্ত্রিত আতশবাজি ফুটিয়ে এবং লাউড স্পিকারে গান বাজিয়ে উদযাপন করায় শিশু, হৃদরোগী ও বৃদ্ধসহ জনসাধারণের স্বাভাবিক ঘুমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। জনস্বাস্থ্যের এই চরম ক্ষতি রোধ করতেই আদালতে এই আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিকের বিশেষ প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা চললেও বাংলাদেশ দল সেখানে খেলার সুযোগ পায়নি। অথচ এ দেশে বড় দলগুলোর সমর্থকদের বাগ্‌যুদ্ধ ও উন্মাদনার কমতি নেই, যা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছেন। এর বাইরে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্রাজিল সমর্থক নিহত হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়ায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশের যেসব স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধে সেখানে ডিবির বিশেষ নজরদারি থাকবে।

অন্যদিকে, এই সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, “খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে—এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় আমাদের বড় ঘাটতি আছে। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক—কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারি না।”